শিরোনাম
 সাত খুন মামলায় ১৫ জনের ফাঁসি বহাল, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  প্রধান বিচারপতির সঙ্গে গওহর রিজভীর সাক্ষাৎ  বিবিএস ক্যাবলসের অস্বাভাবিক দর তদন্তে কমিটি  বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষি ও এসএমই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৭, ২০:৩৬:৩২

মমতার বিকল্প প্রস্তাব আমলে নেয়নি বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

সমকাল প্রতিবেদক
তিস্তার পরিবর্তে অন্য কয়েকটি ছোট নদীর পানি বণ্টনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন তা বাংলাদেশ আমলে নেয়নি বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মমতার প্রস্তাব এখনও আমলে নেওয়া হয়নি, আমলে নেওয়ার দরকারও নেই। তিস্তা তিস্তাই, এর পানি বন্টনের সঙ্গে অন্য নদীর পানি বন্টন মেলানোর কোন সুযোগ নাই।

তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কিছুই না জেনে,বুঝে ঢালাও বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, তাকে প্রমাণ করতে হবে কোন চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিরোধী? প্রমাণ কতে না পারলে তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

শনিবার দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন তিস্তার পরিবর্তে তোর্সা,মানসাই,ধানসাই ও ধলোরার নদীগুলোর পানি বন্টন নিয়ে পানি দেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি রাজী আছেন।

তিস্তায় যেহেতু পানির সমস্যা আছে,গজলডাবা ব্যারেজ আছে,এ কারণে এ নদীর পানি বন্টন নিয়ে সমস্যাও আছে। তিনি বিষয়টি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে এসেছেন বলেও দাবি করেন।

মমতার এ বক্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র দফতর থেকে বলা হয়, মমতার এ বক্তব্য ভারতের পক্ষ থেকে কোন প্রস্তাব নয়। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জানান,মমতার এ বক্তব্য আমলে নেওয়া হচ্ছে না।

এই আলোচনার মাঝেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কখনই বলেননি যে,তাদের রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিস্তা চুক্তি ঝুলে আছে। তারা তাদের মত করে আলোচনা করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে চুক্তি করা এবং সেই ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই তিস্তা চুক্তি করবেন বলে যৌথ ঘোষণাতেও এসেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি না হলেও প্রধানমন্ত্রী তিস্তা চুক্তির দাবি থেকে সরে আসেননি। বরং তিনি তিস্তার পানির দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন এবং সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি প্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মোদির পক্ষীয় বৈঠকে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সব চুক্তির ব্যাপারেই জাতিকে জানানো হবে, এ নিয়ে লুকোচুরির কিছু নাই। সরকার নির্বাহী ক্ষমতার বলে যে কোন দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। চুক্তি সম্পাদনের পর তা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। রাষ্ট্রপতি তা সংসদের উত্থাপনের ব্যবস্থা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লির সফর নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কিছু না জেনে,না দেখে ঢালাও বক্তব্য দিচ্ছেন। তার বক্তব্য শুনে স্পষ্ট বোঝা যায়,তিনি চুক্তির বিষয়বস্তু দূরের কথা শিরোমগুলোও পড়ে দেখেননি। কোন চুক্তির কারণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে তা খালেদা জিয়াকে প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। 

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved