শিরোনাম
 কাবুলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৩৫  ৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে  ভারি বৃষ্টির সাথে পাহাড় ধসের শঙ্কা, সাগরে ৩ নম্বর সংকেত  জর্ডানে ইসরায়েলি দূতাবাসে গুলি, নিহত ২
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৭, ০৩:০০:২৪

অবশেষে দাবি মেনে নিলেন বরিশালের মেয়র

বরিশাল ব্যুরো

টানা সাত দিন জনদুর্ভোগের পর বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অস্থায়ী শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল। গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা থেকে টানা আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন মেয়র কামাল। একপর্যায়ে তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেন।



প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের উপস্থিতিতে করপোরেশনের বর্ধিত ভবনে আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মেয়র কামালের সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।



বৈঠক শেষে মেয়র কামাল বলেন, আন্দোলনকারীদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অস্থায়ী শ্রমিকদের দুই মাসের এবং ২৫ এপ্রিলের মধ্যে আরও এক মাসের বেতন দেওয়া হবে। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি মাসের বেতনের সঙ্গে পাঁচ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ব্যাংকে জমা হবে। অস্থায়ী শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য দূর এবং চাকরি বিধি অনুযায়ী স্থায়ীরা পদোন্নতি পাবেন।



আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, দাবির কিছু অংশ মেনে নেওয়ায় এবং জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে আন্দোলনকারীরা কাজে যোগ দেবেন । প্রথমেই টানা সাত দিনের আন্দোলনে নগরীতে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ অপসারণ শুরু করবেন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।



সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ বৈঠকের আগে বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো ছিল যৌক্তিক। নগরবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনা করে প্রশাসন থেকে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন বিসিসির রাজস্ব আয়ের টাকা দিয়ে উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি বিল পরিশোধ না করার জন্য মেয়রের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজস্ব আয়ের টাকা দিয়ে শুধু জনবলের বেতন পরিশোধ করাটাই ন্যায়সঙ্গত হবে।



এর আগে গতকাল সকালে ঘোষণা দিয়েও নগর ভবনে যাননি মেয়র ও কাউন্সিলররা। আন্দোলনকারীরা বর্জ্যভর্তি গাড়ি দিয়ে নগর ভবনের দুটি গেট অবরোধ করে রাখেন। ফলে সারাদিন নগর ভবন ও আশপাশের পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। এ পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।



সকালে মেয়র সমকালকে জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি নগর ভবনে যাননি। আলোচনার মাধ্যমেই সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হবে।



এর আগে গত শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র কামাল ঘোষণা দেন, রোববার সকালে তিনি কাউন্সিলরদের নিয়ে নগর ভবনে যাবেন এবং আন্দোলনকারীদের দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করবেন। কাজে যোগদান না করলে অস্থায়ী শ্রমিকদের ছাঁটাই এবং স্থায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



আন্দোলনকারীরা পুরো পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে অনড় থাকেন এবং ঘোষণা দেন, বকেয়া পরিশোধ ছাড়াও অবৈধ নিয়োগ-পদোন্নতি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব দাবির সন্তোষজনক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মেয়রকে নগর ভবনে ঢুকতে দেওয়া হবে না। মেয়রের প্রবেশ ঠেকাতে বর্জ্যভর্তি ৮-১০টি ট্রাক দিয়ে নগর ভবনের প্রবেশপথগুলো অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। সকাল ১০টার আগেই তারা নগর ভবন চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।



অন্যদিকে, নগরীর কালুশাহ সড়কে মেয়রের বাসভবনে সমবেত হন কাউন্সিলর ও মেয়র অনুসারী ছাত্রদল-যুবদলের কর্মীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে, মেয়র নগর ভবনে যাবেন না। আন্দোলনের নেতা কর শাখার কর্মকর্তা কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন সকালের দিকে বলেছিলেন, বকেয়া পরিশোধ, নগর ভবনে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধসহ অন্য দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



এদিকে বিকেলে সচেতন বরিশালবাসীর ব্যানারে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে সংবাদ সম্মেলনে কাজী এনায়েত শিপলু বলেন, অপরিকল্পিত জনবল নিয়োগ ও কাউন্সিলরদের ঠিকাদারি বাণিজ্যের কারণে নগর ভবনে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কর দিয়েও নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। তিনি ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছিলেন।



স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন ও ৩৪ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অস্থায়ী শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গত ২৭ মার্চ থেকে কর্মবিরতি পালন করছিলেন বিবিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved