শিরোনাম
 প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে হাওর পরিদর্শনে যাচ্ছেন রোববার  ইন্টারনেটের দাম কমাতে কাজ করছে সরকার: তারানা  হাওর এলাকায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের ছুটি বাতিল  সারোয়ার-তামিম গ্রুপের আইইডি বিশেষজ্ঞ জেনি গ্রেফতার: র‌্যাব
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৭, ০০:১০:১৯

এসডিজি মাথায় রেখে বাজেট করতে হবে

সমকাল প্রতিবেদক
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলোর (এসডিজি) বাস্তবায়ন মাথায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ করেছে গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। সংস্থাটি মনে করে, এসডিজি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বিনিয়োগ দরকার এবং তা বাজেটের মাধ্যমে হওয়া উচিত। বাজেট পুস্তিকায় একটি 'এসডিজি পর্যবেক্ষণ' অধ্যায় রাখারও প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে দেশের অর্থনীতির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও শিল্পের বহুমুখীকরণে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এই অতিরিক্ত বিনিয়োগের জন্য কর আদায় অনেক বাড়াতে হবে। এজন্য রাজস্ব নীতিতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে মন্ত্রণালয়গুলোর মোট খরচের ৬৫ শতাংশ এসডিজি লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু এই সামঞ্জস্য ১০০ ভাগ হওয়া দরকার। এজন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে এসডিজি বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষায় বর্তমান ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ। এসডিজির লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২০ সাল নাগাদ এই ব্যয় ৩ শতাংশ এবং ২০২৫ সাল নাগাদ ৪ শতাংশ করতে হবে। এরপর এই হার অব্যাহত রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বর্তমানে জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় হয়, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৪ শতাংশে নিতে হবে। তিনি বলেন, এই বিপুল বিনিয়োগ করতে গেলে কর জিডিপির হার বাড়ানোর বিকল্প নেই। বর্তমানে কর জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এজন্য আইনি সংস্কারের পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি ও খাত করের বাইরে রয়েছে সেগুলো করের আওতায় আনতে হবে।

সেলিম রায়হান বলেন, অর্থনীতির বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক থাকা এবং নিম্ন শিক্ষার হার কর আদায় প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। কর প্রক্রিয়ায় কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেগুলো সফল হয়নি। কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে রাজস্ব প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার দরকার। যার মাধ্যমে কর প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর প্রশাসন শক্তিশালী হবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকীকরণ বাড়বে। তবে এসবের জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর

করতে হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অঞ্চলগুলোকে বন্দরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তিনি বলেন, মুদ্রানীতি বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ও খেলাপি ঋণ আর্থিক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে তুলে ধরছে। ফলে সুদহার কমিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানো সম্ভব হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সানেমের গবেষক সায়মা হক বিদিশা বলেন, বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ কর্মসংস্থান সন্তোষজনক পর্যায়ের। এ ধরনের কর্মসংস্থান ৪৫ শতাংশ করা না গেলে এসডিজি অর্জন সহজ হবে না। তিনি মানবসম্পদ ও মানব অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

সানেমের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মশিউর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে জমি পাওয়া কঠিন হবে। সেজন্য জেলা পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন তিনি।

সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট নাজমুল অভি হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দক্ষতা সৃষ্টিতে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, সেখানে শিল্প মালিকদের অংশগ্রহণ নেই। ফলে চাহিদা খাতে দক্ষতা তৈরি হচ্ছে না। তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশ দিন দিন কমে আসছে। বর্তমানে ৬০

থেকে ৬৫ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজ করছে পোশাক শিল্পে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved