শিরোনাম
 উত্তরে পানি কমছে, বাড়ছে মধ্যাঞ্চলে  রাষ্ট্রপতিকে জানানো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব: ওবায়দুল কাদের  নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারী খুঁজতে কমিশন গঠনের চিন্তা চলছে: আইনমন্ত্রী  রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নজিরবিহীন: ফখরুল
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:২৬:৫১ | আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৭, ০৯:১৯:০১

বিএনপির 'ভিশন-২০৩০' রূপকল্প শিগগিরই

লোটন একরাম

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে শিগগির 'ভিশন-২০৩০'-এর 'পূর্ণাঙ্গ রূপকল্প' উপস্থাপন করবে বিএনপি। নির্বাচনকালীন 'নির্দলীয় সহায়ক সরকারের' রূপরেখা ঘোষণার আগেই এই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। ১০-১৫ দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে পরিকল্পনাটি তুলে ধরবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে তারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন- তারই একটি বিশদ পরিকল্পনা বই আকারে প্রকাশ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়তে চায় বিএনপি। মহাপরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে থাকছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, উচ্চকক্ষে বিশিষ্টজন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে 'গণশুনানি'র মাধ্যমে নিয়োগ, 'গণভোট' পুনঃপ্রবর্তন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তদন্ত কমিটি গঠনসহ সব সেক্টরেই আমূল পরিবর্তন।



এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, বর্তমানে দেশে 'সংকটজনক পরিস্থিতি' চলছে। জাতিকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার নষ্ট রাজনীতির আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশ ঘোর অমানিশায় আচ্ছন্ন হবে। বিএনপিই শুধু পারে সেই সম্মুখপ্রসারী ধারাকে এগিয়ে নিতে।



বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিক একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।



বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, পৃথিবী এখন বদলে যাচ্ছে। একুশ শতকে এসে জাতিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে। ঐক্য, শৃঙ্খলা, মেধা, যোগ্যতা এবং সমন্বিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের মাধ্যমে চলমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে যে যার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না।



দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী পরপর দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। তাতে আগামী নির্বাচনও বর্জন করলে বিএনপিরও নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাও বলছেন, নেতারা মুখে যা-ই বলুন, দলের নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতেই বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপি নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করছেন। তারা বলছেন, নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীন ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না। অচিরেই বিএনপি নির্বাচনকালীন 'নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের' একটি রূপরেখা দেবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং না নেওয়ার এ বিতর্কের মধ্যেই সহায়ক সরকারের রূপরেখার আগেই ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের কিছুদিন পর নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা উপস্থাপন করবে দলটি।



সূত্র জানায়, ২০১৫ সাল থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরামর্শে দলের থিঙ্কট্যাঙ্করা 'ভিশন-২০৩০' পূর্ণাঙ্গ রূপরেখার খসড়া প্রস্তুতের কাজ শুরু করেন। দেশের অগ্রসর চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, পরিকল্পনাবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় কর্মরত শীর্ষস্থানীয় ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকেও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।



'ভিশন ২০৩০'-এ যা থাকছে: বিএনপির রূপকল্প তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থিঙ্কট্যাঙ্ক ও নেতারা সমকালকে জানান, বিএনপি মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এ অবস্থার অবসানে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে 'ভারসাম্য' আনার ঘোষণা থাকবে মহাপরিকল্পনায়। রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী, পেশার জ্ঞানী-গুণী ও মেধাবী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বিএনপি।



বিএনপির থিঙ্কট্যাঙ্করা সমকালকে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনআকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিয়ে, তাদের সম্পৃক্ত করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করার কথা থাকবে। সুধী সমাজ, গণমাধ্যম, জনমত জরিপ, জনগণের দৈনন্দিন চাওয়া-পাওয়া, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সব ধরনের অভিজ্ঞানের নির্যাস গ্রহণ করে দেশ পরিচালনা করাই হবে বিএনপির লক্ষ্য।



দলীয় সূত্র জানায়, তথ্য ও প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই বিএনপি 'ভিশন-২০৩০' প্রণয়ন করছে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি কৃৎকৌশলের বিষয়ে মানবসম্পদের উৎকর্ষ সাধন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে তাদের লক্ষ্য। বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে সাংবিধানিক পদের নিয়োগপদ্ধতি সংস্কার করবে। সততা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ করে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় 'গণশুনানি'র ব্যবস্থা থাকবে।



সূত্র জানায়, জঙ্গি নির্মূলের অঙ্গীকার থাকবে বিএনপির পরিকল্পনায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মাটি থেকে অপর কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাও মেনে নেবে না বলে ঘোষণা দেবে তারা। বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করতে চায় না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। ভারতকে এই মর্মে আশ্বস্ত করতে চায়, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হবে না।



সূত্র জানায়, বিএনপির পরিকল্পনায় আরও থাকছে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাসনের জন্য নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও আধা-সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণমুক্ত করা। আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে এগুলোর দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে। সুনীতি, সুশাসন এবং সু-সরকার ব্যবস্থা করতে চায় তারা। সংবিধানে জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত গণভোটের ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার দেবে।



সূত্র জানায়, বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সব কালাকানুন বাতিল করার কথা থাকছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে এবং আটক অবস্থায় দৈহিক-মানসিক অমানবিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। আটকাবস্থায় মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার জন্য তদন্তের ব্যবস্থা থাকবে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা ও পদ্ধতি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করবে বিএনপি।



'ভিশন-২০৩০' রূপকল্পে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করবে বিএনপি।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved