শিরোনাম
 সুজানগরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা  ফের গণমাধ্যমের ওপর চড়াও ট্রাম্প  এসপানিওলকে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:২৪:২০ | আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৭, ০৯:২৫:৩৩
প্রতারণা

ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি

সমকাল প্রতিবেদক

এক সময় ছিলেন ভাঙাড়ির ফেরিওয়ালা। এরপর ঢাকায় ফেরি করে বিক্রি করতেন কাচের গ্গ্নাস। ফরিদপুরের ভাঙ্গার এই ফারুক হোসেন মাতবর এখন কোটিপতি। ব্যবসা-বাণিজ্য না করলেও টাকার হিসাব-নিকাশ রাখতে তার রয়েছে লম্বা টালি খাতা। গ্রামের বাড়িতে উঠেছে আলিশান বাড়ি, বিলে সারি সারি জমি। কী করে এই অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি? অন্য মানুষের মোবাইল ফোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা টাকাকে নিজের সম্পদে পরিণত করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। প্রতারণার জাল বিছিয়ে পরের ধনে পোদ্দারি করলেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য জারিজুরি ফাঁস হয়ে গেছে তার। গত রোববার রাতে তাকে গ্রামের বাড়ি থেকে সহযোগী রাজীব খানসহ গ্রেফতার করেছেন ঢাকার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।



ফারুকের বয়স এখন ২৮ বছর। তবে প্রযুক্তিগত প্রতারণায় হাত পাকিয়েছেন গত ছয় বছর ধরে। গ্রামের বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার রায়নগরে। নিজের বাড়িতেই খুলে বসেছিলেন তিনি প্রতারণার 'কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার'। অন্যের মোবাইল ফোনের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা 'কেড়ে' নিতে কখনও তিনি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাস্টমার সার্ভিস কর্মকর্তা হতেন, কখনও-বা কথা বলতেন মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে। কখনও-বা 'জিনের বাদশা' হয়ে যেতেন। মোবাইল গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকার লটারি জেতার বার্তা দিতেন তিনি আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। প্রযুক্তিগত কৌশলে উল্টো নিজেই হাতিয়ে নিতেন তাদের মোবাইল অ্যাকাউন্টের টাকা। এ কাজের জন্য একটি গ্রুপও গড়ে তোলেন তিনি। সহযোগী রাজীব তাকে সহায়তা করতেন বিভিন্ন মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে দিয়ে। পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, গত জানুয়ারিতে রাজধানীর শ্যামপুরের এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। প্রযুক্তিগত তদন্ত চালিয়ে ফারুক হোসেন মাতবরকে চিহ্নিত করে রোববার রাতে স্থানীয় থানা-পুলিশের সহায়তায় সহযোগী রাজীবসহ গ্রেফতার করে তারা। এ সময় চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে যায়।



গ্রেফতার ফারুক জানিয়েছেন, এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে প্রতারণা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। টাকা কামিয়ে চলে যান সৌদি আরব। কিন্তু সেখানে ভালো না লাগায় তিন বছর আগে দেশে এসে আগের 'পেশায়' ফেরেন।



পিবিআইর ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ সমকালকে বলেন, 'মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার অন্যতম হোতা ফারুক হোসেন। তিনি নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে গ্রামের বাড়িতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করে আলিশান বাড়ি করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনেছেন। নিজের সুরক্ষিত আলিশান বাড়িতেই প্রতারণার অফিস খুলে বসেন তিনি। মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহার করে টার্গেট করা গ্রাহকদের কাছে নিজেকে কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করার নামে তিনি টাকা হাতিয়ে নিতেন। বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করে ও মোবাইল ফোন ক্লোন করে তিনি এই কাজ করতেন। তার বাড়ির ছাদে বিশেষ ধরনের টাওয়ার অ্যান্টেনাও পাওয়া গেছে।



পিবিআই কর্মকর্তা বশির আহমেদ বলেন, তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপারেটরের ১৯৩টি সিমকার্ড, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি টালি খাতা জব্দ করা হয়েছে। এসব সিমকার্ড নিবন্ধিত কি-না তা যাচাই করা হচ্ছে। টালি খাতাগুলোতে শত শত মোবাইল ফোন নম্বর ও টাকার পরিমাণ লেখা রয়েছে। এসব বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved