শিরোনাম
 আতিয়া মহলে দুই জঙ্গি নিহত, ভেতরে আরও আছে: ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনী  আতিয়া মহলে অভিযান চলছে, গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ  জঙ্গিবাদ ছেড়ে সুপথে ফিরলে পুনর্বাসন: প্রধানমন্ত্রী  চুয়াডাঙ্গায় ট্রাক-ভটভটির সংঘর্ষে নিহত ১৩
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:১৫:২৩

নৌকা না লাঙ্গল

কাল গাইবান্ধা-১ উপনির্বাচন
মসিউর রহমান খান ও এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকে

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনে আগামীকাল বুধবার ভোট। নির্বাচন ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ। এ নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী হলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীর মধ্যে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষে নেতাকর্মীরা ভোটের হিসাব কষছেন। জামায়াতের ভোটব্যাংকের দিকে বেশি নজর প্রধান দুই প্রার্থীর।



গত ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও লাঙ্গলের। দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকা জামায়াত-অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করলেও জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ভোটব্যাংক খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করেন অনেকেই। এলাকায় বিএনপির অবস্থান দুর্বল। প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটারের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৫০ হাজারের বেশি ভোট আছে। তবে অতীতে এ ভোট কখনও আওয়ামী লীগ একচেটিয়াভাবে পায়নি বলে ধারণা করা হয়।



২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল আজিজ জয়ী হন। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল কাদের খান। তিনি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম লিটন নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির হাফিজার রহমান প্রামাণিক এবং ১৯৯৬ সালে একই দলের ওয়াহেদুজ্জামান সরকার নির্বাচিত হয়েছিলেন।



এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহমেদ স্বচ্ছ ইমেজের কারণেই জয়ী হবেন বলে তার সমর্থকরা মনে করেন। বৃহত্তর রংপুরের এ আসনে এরশাদের জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান আগের মতো নেই। এ কথা স্বীকার করছেন সুন্দরগঞ্জ পৌর শাখা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল রশিদ সরকার ডাবলু। তবে তার মতে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল। এ কারণেই লাঙ্গল প্রতীকের জয়ের সম্ভাবনা আছে। এমপি লিটন হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কাদের খানের সম্পৃক্ততা থাকলেও তাতে ভোটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ কাদের খান এমপি হওয়ার পর থেকেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন।



সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম মনে করেন, জামায়াতের ওপর প্রশাসনের নেতিবাচক মনোভাব থাকায় তাদের ঘাড়ে দায় চাপাতেই জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কাদের খান এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন।



এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের সমন্বয়কারী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (বরখাস্ত) আবু সোলায়মান সরকার সাজা বলেন, এমপি লিটন হত্যার পর দলের ১৫৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। কাদের খান এ মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জামায়াতের ১০৩ জন জামিনে বের হয়েছেন। অন্যরাও জামিনে মুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কারাগারে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে কাদের খানের সহযোগী মেহেদী জানিয়েছেন, গাইবান্ধার তুলসীঘাটে যাত্রীবাহী বাসে অগি্নসংযোগের ঘটনার সঙ্গেও তারা জড়িত। কাদের খানের নির্দেশেই তারা এসব ঘটিয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি মন্দিরেও হামলা চালিয়ে জামায়াতের ঘাড়ে দায় চাপানো হয়েছে।



উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমেদ জানান, এবার ভোটকেন্দ্রে ভোটার যত বেশি উপস্থিত হবেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা ততই উজ্জ্বল হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশ না আসায় তারা এবার ভোটে কাউকে দলগতভাবে সমর্থন দিচ্ছেন না জানিয়ে বাবুল আহমেদ বলেন, 'আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে নৌকা ও লাঙ্গলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছেন।'



জাতীয় পার্টির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান মণ্ডল দাবি করেছেন, নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সরকারি দলের সমর্থকরা। জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধ থাকলেও জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওঠবস করতে ও প্রচারে নামতে দেখা গেছে। তবে তারা আশাবাদী, প্রশাসন শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকবে। অন্যদিকে আবদুল মান্নানের অভিযোগ পুরো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদুল ইসলাম।



সমকালের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা আবু সোলায়মান সরকার সাজা অবশ্য দাবি করেছেন, চণ্ডীপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক টেক্কা মিয়ার বাসায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাকে ডেকে নিয়ে সমর্থন চেয়েছেন। জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। ১২ মার্চ জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বৈঠকে বসলেও তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ওই বৈঠকে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামতে আপত্তি নেই বলে জানানো হয় কর্মীদের।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved