শিরোনাম
 সুজানগরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা  ফের গণমাধ্যমের ওপর চড়াও ট্রাম্প  এসপানিওলকে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:১৩:০৭ | আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:১৫:৪৮

সোহেলকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

হানিফের মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় আসক
সমকাল প্রতিবেদক

এখনও খোঁজ মেলেনি পুরনো আসবাবপত্র ব্যবসায়ী সোহেল হোসেনের। সোহেলের সন্ধান পেতে গতকাল সোমবার তার মা মমতাজ বেগম, স্ত্রী নিপা ও ৪ বছরের ছেলে মাহিন উত্তরার র‌্যাব-১ কার্যালয়ে যান। র‌্যাব কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরেন তারা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য আকুতি জানিয়ে মা মমতাজ বেগম বলেন, ছেলেকে জীবিত ফিরে পেলে এ নিয়ে আর টুঁ শব্দও করবেন না। প্রশাসনের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও তুলবেন না। র‌্যাব কর্মকর্তারা সোহেলের ছবি ও তথ্য লিপিবদ্ধ করে জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্বজনদের বক্তব্য, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতারের পর মৃত আবু হানিফ মৃধার সঙ্গে সোহেলকেও গ্রেফতার করা হয়।



এদিকে আবু হানিফ মৃধার মৃত্যুর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ দাবি জানানো হয়।



র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সমকালকে জানান, সোহেলকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তবে প্রতারক চক্র কখনও ডিবি, কখনও র‌্যাব পরিচয়ে লোকজনকে অপহরণ করে। এ রকম প্রতারকদের বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারও করা হয়েছে। নিহত দুই সন্দেহভাজন জঙ্গির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।



গত শুক্রবার দুপুরে আশকোনায় প্রস্তাবিত র‌্যাব সদর দপ্তরের অস্থায়ী ক্যাম্পে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মারা যায় সন্দেহভাজন এক জঙ্গি। এর পরদিন আবু হানিফ নামে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। র‌্যাব জানায়, শুক্রবার ওই ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে হানিফকে গ্রেফতার করা হয়। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় 'হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে' তার মৃত্যু হয়।



অবশ্য আবু হানিফের পরিবারের দাবি, আশকোনার ঘটনার অনেক আগেই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে হানিফ ও সোহেলকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। এর পর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ৪ মার্চ হানিফের ভাই হালিম মৃধা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করেন। তবে এই জিডির বইটি আর সংশ্লিষ্ট থানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।



সোহেলের স্ত্রী নিপা সমকালকে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন হানিফের সঙ্গে লঞ্চে বরিশাল থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন সোহেল। সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে কথা বলার সময় চাঁদপুরে রয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন সোহেল। এর পর আর তার খোঁজ মেলেনি। পরে হানিফের পরিবারের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, কাঁচপুরে ডিবি পরিচয়ে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছে।



সোহেলের মা মমতাজ বেগম সমকালকে জানান, ছেলের বয়স যখন ১ বছর, তখন তার বাবা মারা যান। এর পর তিনি ছেলেকে কোলে নিয়ে ভিক্ষা করেছেন, অনেক কষ্টে তাকে বড় করেছেন; কাপড় বিক্রি করেছেন। সোহেল এসএসসি পর্যন্ত পড়েছে। এর পর সে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন, প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ জুগিয়েছে। সর্বশেষ সে এক বন্ধুর সঙ্গে গুলশানে পুরনো আসবাবপত্রের ব্যবসা শুরু করে। সোহেল রাজধানীর ধলপুরে সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকত।



মমতাজ বেগমের দাবি, গ্রেফতারের পর আবু হানিফের পরিবারের সঙ্গে র‌্যাব যোগাযোগ করেছিল। তারা হানিফের বাসা থেকে ব্যাংকের কাগজপত্রও নিয়ে গেছে। কিন্তু তার সঙ্গে কেউ আর যোগাযোগ করেনি। কারা, কেন 'নিরপরাধ' সোহেলকে তুলে নিয়ে এতদিন আটকে রেখেছে- তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলবেন না। শুধু ছেলেকে জীবিত ফিরে পেতে চান। কারণ তার আর কেউ নেই।



স্বজনরা জানান, সোহেল ও হানিফের পরিচয় অনেক দিনের। নিখোঁজ হওয়ার দিন তারা বরিশালের চরমোনাই পীরের ওরস থেকে ফিরছিল। তাদের কোনো অপরাধ বা জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি স্বজনদের।



পরিচয় মেলেনি এখনও: শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর আশকোনায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও শনিবার ভোরে খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গায় র‌্যাবের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন দুই জঙ্গির পরিচয় এখনও মেলেনি। ময়নাতদন্তের পর তাদের মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের হিমঘরে। স্বজন বা পরিচিত কেউ এখনও তাদের লাশ শনাক্ত করতে আসেননি। এ দুটি ঘটনায় বিমানবন্দর ও খিলগাঁও থানায় দায়ের করা মামলা দুটির অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved