শিরোনাম
 আতিয়া মহলে দুই জঙ্গি নিহত, ভেতরে আরও আছে: ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনী  আতিয়া মহলে অভিযান চলছে, গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ  জঙ্গিবাদ ছেড়ে সুপথে ফিরলে পুনর্বাসন: প্রধানমন্ত্রী  চুয়াডাঙ্গায় ট্রাক-ভটভটির সংঘর্ষে নিহত ১৩
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:১০:১৪

আকাশযুদ্ধের সমরযানে সমৃদ্ধ বিমান জাদুঘর

মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহশালা
এসএম মুন্না

স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন দেখতে কার না ভালো লাগে। সেটা যদি হয় 'যুদ্ধবিমান' বিষয়ক কোনো নিদর্শন- তাহলে কৌতূহলের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তেমনি কৌতূহলের এক জাদুঘর 'বাংলাদেশ বিমান জাদুঘর'। যেখানে রয়েছে ডাকোটা বিমানসহ অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। রাজধানী তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের পশ্চিম রানওয়েতে (আইডিবি ভবনের বিপরীত পাশে) অবস্থিত বিমান জাদুঘর। এ জাদুঘরে সংরক্ষিত স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন দেখতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।



শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ- সকলের কৌতূহলের কেন্দ্রে থাকে যুদ্ধবিমানগুলো। জাদুঘর ঘুরে সেগুলো দেখেনও দর্শনার্থীরা। এ জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণও মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহার করা বেশ ক'টি ঐতিহাসিক বিমান। এর মধ্যে রয়েছে ডাকোটা বিমান। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনী এ বিমানটি ব্যবহার করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিমানটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে উপহার দেয় ভারত। এ বিমানটি ভারতের শ্রীনগরে ১৯৪৭-৪৮ সালে যুদ্ধের সময় সেনাসদস্য পরিবহন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইল অঞ্চলে সেনা অবতরণের জন্য বিখ্যাত। গৌরবোজ্জ্বল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জাদুঘরে গর্বের সঙ্গে ঠাঁই করে নিয়েছে স্মৃতিবিজড়িত বিমানগুলো। ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে বিমানবাহিনী জাদুঘর। এর আগে ১৯৮৭ সালের ১৭ জুন এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।



অন্য সব জাদুঘর থেকে এ জাদুঘরটি আলাদা। এটি কোনো বদ্ধ ঘরে নয়। খোলামেলা সবুজ প্রান্তরে মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এ ঐতিহাসিক জাদুঘর। জাদুঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানবাহিনীর গৌরবের জঙ্গিবিমান, হেলিকপ্টার ও রাডার। মোট ১৯টি বিমান এবং ৩টি রাডার রয়েছে এ জাদুঘরে। এর মধ্যে ৩টি বিমান একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনী ব্যবহার করে। পরে ভারতীয় বিমানবাহিনী বাংলাদেশকে এগুলো উপহার দেয়। যুদ্ধবিমান ডাকোটার পাশাপাশি রয়েছে 'অ্যালিউট' হেলিকপ্টার। এটি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সেনানিবাসে আঘাত হানা হয়েছিল।



মূল গেট থেকে খানিক এগোলে চোখে পড়ে বিশাল একটি বিমান। বাংলাদেশের প্রথম পরিবহন উড়োজাহাজ এটি। রাশিয়ার তৈরি এন-২৪ বিমানটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে ১৯৭৩ সালে 'বলাকা' নামে সংযোজিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ বিমানটির সঙ্গে। এ বিমানে করেই বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন রাষ্ট্র সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে রাষ্ট্রীয় সমর্থন আদায় করেছেন। বিমানটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৪৪ জন। বলাকায় দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগও রয়েছে। বলাকা ছাড়াও আরও তিনটি বিমানে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। বিমানগুলোতে প্রবেশের জন্য টিকিট মূল্য ৩০ টাকা। বিমানগুলোতে প্রবেশ করলে প্রদর্শন করা হয় বিমানবাহিনীর ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র।



রয়েছে হান্টার বিমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় এ বিমানটি দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের ওপর হামলা চালানো হতো। পরে ভারতীয় বিমানবাহিনী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে এটি উপহার হিসেবে দেয়। বিমানটি ১৯৫১ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় বিমানবাহিনীতে আকাশ রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। ওই সময়ে এটি খুবই শক্তিশালী এবং নির্ভরশীল বিমান ছিল। বিমানবাহিনীতে ১৯৮৯ সালে চীনের তৈরি 'এফটি-৭ বিমান' যুদ্ধবিমান হিসেবে প্রথম সংযোজিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৮৬ যুদ্ধবিমানটি ব্যবহার করে। যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়ে বিমানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে বিমানবাহিনীর প্রকৌশল কর্মকর্তা ও টেকনিশিয়ানরা বিমানটি মেরামত করেন এবং ১৯৭২ সালে সফলভাবে উড্ডয়ন করান। বিমানটি ১৯৪৭ সালের তৈরি।



মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪ ডিসেম্বর বিমানবাহিনীর বৈমানিকগণ কানাডায় নির্মিত অটার-৭২১ বিমান দিয়ে হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে আঘাত হানে। সেটিও আছে এই জাদুঘরে। রয়েছে মিগ-২১ এফ এল বিমান। বিমানটি প্রধানত আকাশ প্রতিরক্ষা ও ভূমি পাহারার জন্য ব্যবহৃত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এ বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ও আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখে। 'ন্যাট-৯১৬ বিমান' জঙ্গি বিমানগুলোর মধ্যে সর্বাধিক হালকা এবং আয়তনে ছোট। ১৯৫০ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। সে সময়ে ন্যাট বিমান আকাশযুদ্ধে অত্যন্ত চৌকস বিমান হিসেবে পরিচিতি ছিল। মুক্তিযুদ্ধে তিনটি ন্যাট বিমান পাকিস্তানের তিনটি স্যাবর জেট (এফ-৮৬) ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর বগুড়ায় আকাশযুদ্ধে এ বিমানটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখে। জাদুঘরে স্থাপিত প্রতিটি নিদর্শনের সঙ্গে আছে তথ্যাবলি। আগ্রহীরা তা থেকে জেনে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় তথ্য। মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনীর শহীদদের স্মরণ করতে তৈরি করা হয়েছে শহীদ কর্নার।



শিশুদের জন্য রয়েছে ছোট পরিসরে শিশু পার্ক। বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে জিরাফ, শিম্পাঞ্জি, হরিণ ইত্যাদি নানা রকম পশু-পাখির প্রতিকৃতি। পার্কটির নাম দেওয়া হয়েছে 'চিলড্রেন হেভেন'। সোম থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। রোববার জাদুঘর বন্ধ থাকে। জাদুঘরে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved