শিরোনাম
 রাজধানী ও কুষ্টিয়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪  'রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এএসপি মিজান হত্যায় জড়িত'
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭

সাইকেলের প্রত্যাবর্তন

আনোয়ার হোসেন
In Beijing, Two Wheels Are Only a Smartphone AwayÑএভাবেই সোমবারের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। চীনে এখন হাতে হাতে স্মার্টফোন। এক সময় সে দেশের রাজধানী বেইজিংকে বলা হতো সাইকেলের নগরী। লাখ লাখ নারী-পুরুষের নগর-বাহন ছিল দুই চাকার এ যানটি। সমাজতন্ত্রের পথ ধরে চলা দেশটির অর্থনীতি ও সমাজজীবনে রাষ্ট্রের প্রভাব ছিল সর্বব্যাপী। নগরবাসীর চলাচলের জন্য কী ধরনের যান ব্যবহার হবে, কারা কোন ধরনের গাড়িতে চাপবে_ সব ঠিক করে দিত রাষ্ট্র। প্রাইভেট কার ছিল সীমিতসংখ্যক সুবিধাভোগী মানুষের জন্য। কিন্তু যুগ পাল্টেছে। চীনে এখন অনেক অনেক মানুষ বিপুল সম্পদের অধিকারী। মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী বিপুল। তাদের গাড়ি কেনার ক্ষমতা আছে এবং নিজের গাড়ির স্বপ্ন পূরণে রাষ্ট্রেরও আপত্তি নেই। সঙ্গত কারণেই রাজপথে ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়ছে হুহু করে। এসব গাড়ি রাজপথ থেকে ক্রমে বিদায় করে দিতে থাকে দুই চাকার সাইকেল।
কিন্তু হাল আমলে বেইজিংয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছে সাইকেল। তবে এ সাইকেল অত্যাধুনিক। সুন্দর রঙ করা হাল ফ্যাশনের এ সাইকেলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে বিশেষভাবে তরুণ-তরুণীরা। কয়েকটি কোম্পানির তৈরি সাইকেল বাজারে সহজেই স্থান করে নিতে পারছে। বাসে উঠতে ভিড়। এখানে-সেখানে নিরাপত্তা চেকিং। ব্যয় তো আছেই। সে তুলনায় সাইকেল বেজায় সস্তা এবং ঝামেলামুক্ত। নাগরিকরা নগরের বিভিন্ন স্থানে রাখা সাইকেল নিয়ে যে কোনো গন্তব্যে যেতে পারে। তারপর সাইকেলটি পছন্দের কোনো স্থানে রেখে দিয়েই দায়িত্ব শেষ। তাতে অবশ্য অনেকের অসুবিধা হচ্ছে এবং পুলিশ এ বিশৃঙ্খলা রোধ করার জন্য সক্রিয় হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা জুন মাসের মধ্যে পার্কিং ও অন্যান্য বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করবে। যেখানে-সেখানে সাইকেল ফেলে রাখায় অনেকে সমস্যায় পড়ছে।
কীভাবে বাইসাইকেল পাওয়া যায়? যার সাইকেল দরকার, স্মার্টফোনে নির্দিষ্ট হিসাবে সামান্য অর্থ পাঠালেই নিকটস্থ কোনো স্থান থেকে মেলে এ যান চালানোর সংকেত। স্বল্প গন্তব্যে যেতে এমন সুবিধা আর কীইবা হতে পারে। বেইজিং এখন গাড়ির চাপে পিষ্ট নগরী। পেট্রোলচালিত গাড়ি পরিবেশ দূষিত করছে। বাতাসে নিঃশ্বাস ফেলা দায়। এ অবস্থায় সাইকেলেই মুক্তি! এ ধরনের যান উৎপাদন করছে যেসব প্রতিষ্ঠান, তাদের ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে উঠছে।
এমনকি বয়স্করাও এ ধরনের সাইকেলের ব্যবহার শুরু করেছেন। ৭০ বছর বয়সী এক নারী বলেছেন, তার নিজের একটি সাইকেল ছিল। সেটা চুরি হয়ে যায়। কিন্তু ভাড়ায় পাওয়া সাইকেল চুরি হওয়ার ভয় নেই। পার্কিং নিয়েও দুশ্চিন্তা নেই।
বেইজিংয়ে আরও একটি সুবিধা রয়েছে_ সাইকেলের জন্য পৃথক লেন। ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা বাস ও মালটানা গাড়িগুলো এ লেনে হানা দিতে পারে না। অতএব, দুর্ঘটনার ভয়ও নেই। দেখা যাক, উন্নত বিশ্বের সারিতে দ্রুত বেগে এগিয়ে চলা চীনে সাইকেলের দাপট কতদিন চলে।
বাংলাদেশেও কিন্তু এমন উদ্যোগ সফল হতে পারে। এখন প্রচুর মোটরসাইকেল চলছে। জেলা-উপজেলায় ভাড়ায় চলছে মোটরসাইকেল।
বাইসাইকেলের ব্যবহারও বেড়েছে। কবে সাইকেল
মিলবে ভাড়ায়?
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved