শিরোনাম
 রাজধানী ও কুষ্টিয়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪  'রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এএসপি মিজান হত্যায় জড়িত'
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুন মোবাইল গেম

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায়ের সঠিক তথ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে পেঁৗছে দিতে তৈরি হচ্ছে ভিডিও গেম। স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি নিয়ে দেশীয় গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাসিভস্টার ডেভেলপ করেছে নতুন গেম 'ম্যাসিভ যুদ্ধ ৭১'। গেমটি নিয়ে লিখেছেন তৌহিদুল ইসলাম তুষার
ম্যাসিভস্টার ডেভেলপ করেছে মুক্তিযুক্ত ভিত্তিক গেম 'ম্যাসিভ যুদ্ধ ৭১'। এর আগে রাজধানীর হাতিরঝিল নিয়ে গেম প্রকাশ করে আলোচনায় আসে ম্যাসিভস্টার। এরপর প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় উদ্যোগ 'ম্যাসিভ যুদ্ধ ৭১'। এ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাহাবুব আলম বলেন, এই গেম আয়োজন করে খেলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চর্চার সূচনা হতে পারে। বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্র, তরুণ এবং যুব-সমাজ উদ্যোগ নিতে পারে পাড়ায়, মহল্লায়। সারা পৃথিবীতে গেমস রফতানির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি গেমসের জোরালো প্রবেশ নিশ্চিত করতে পারে। ম্যাসিভস্টার বাংলাদেশে বাণিজ্যিক গেমস নির্মাণ শুরু করেছিল ২০১৩ সালে। তাদের প্রথম গেম 'হাতিরঝিল ড্রিম বিগিন্স। মুক্তিযুদ্ধের ম্যাসিভ যুদ্ধ ৭১ নিয়ে তিনি বলেন, গেমটিকে মোট ২১টি পর্বে চিত্রায়িত করা হবে। ইতিমধ্যে এর একটি পর্ব সম্পূর্ণ হয়েছে। এই কাজটি করতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় আড়াই বছর সময় লেগেছে। তবে ২০২১ সালের মধ্যে আমরা ২১টি পর্ব সম্পূর্ণ হবে। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে বিজয় অর্জন পর্যন্ত সম্পূর্ণ থাকবে এই গেমটিতে। এখান থেকে যে কেউ জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর কথা। প্রতিটি ধাপে জেতার মধ্যে দিয়ে খেলোয়াড় জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাস। গেমটির প্রথম পর্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির সময়কালকে তুলে আনা হয়েছে। এই সময়টাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির সময়কাল হিসেবে ধরা হয়। যেহেতু এটি মুক্তিযুদ্ধের একদম সঠিক তথ্যনির্ভর গেম তাই শুরুতে সময় অনেক বেশি লেগেছে।
গেমটির প্রেক্ষাপট
বাঙালিদের জন্য গৌরবময় একটি অধ্যায় ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। এই অহংকার অনুধাবনের, অনুভবের। আর মুক্তিযুদ্ধকে অনুভবের জন্য গেম একটি অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। এই গেম মুক্তিযুদ্ধের একটি ডিজিটাল দলিল। এখানে শুধু নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধই নয়। উঠে এসেছে ঘটনার আড়ালে থাকা নানা গল্প। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও প্রতিরোধ যেমন ছিল, ঠিক সেভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন, ২৫ মার্চের কালো রাতে বঙ্গবন্ধুকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন যেমন ছিল সেই বাড়িটি। তা হুবহু তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ম্যাসিভস্টারের সিইও মাহাবুব আলম বলেন, গেমটি মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ কোনো অংশ বা আংশিক কোনো ঘটনা নিয়ে তৈরি নয়। আমাদের উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধকে অনুভবে নিয়ে আসা। মহান মুক্তিযুদ্ধকে অনুভূতিতে আনতে গেলে তিনটি বিষয় খুব জরুরি। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বাংলাদেশকে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধের মাঝে যুদ্ধকে অনুভব করতে হবে। তৃতীয়ত, মুক্তিযোদ্ধাকে বুঝতে হবে এবং ধারণ করতে হবে। আর পুরো গেমটি সেভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। গেমটির সব পর্বে পুরো মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
নিজেই যখন যোদ্ধা
গেমার এখানে শুধু যোদ্ধা রূপের প্রকাশ পেয়েছেন তা নয়। সে যে কোনো রূপে খেলতে পারবে। তবে প্রথম পর্বে আটটি চরিত্র উন্মুক্ত করা হবে। যার মধ্যে চারটি ট্র্যাক ইতিমধ্যে উন্মুক্ত হয়েছে। আর খেলায় শুধু এই চরিত্রের হয়ে খেলতে পারবে। চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কেউ ভাই, কেউ সহকর্মী আবার কেউ যোদ্ধা। পরে এসব চরিত্র আরও বাড়ানো হবে। সর্বোপরি একাত্তরের যে কেউ হয়ে খেলতে পারবে। এটি মূলত একটি রোল প্লেইং গেম।
প্রযুক্তির ব্যবহার
এখানে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি বোঝার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম পর্বে প্রযুক্তির ব্যবহারের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভিজুয়াল পরিবেশনে। এবারের পর্বে ব্যবহার হয়েছে ম্যাক্স ও ভায়া প্রযুক্তি। পরের পর্বগুলোতে উন্নত বিশ্বের মতো প্রযুক্তির ছোঁয়া পাবে গেমাররা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাহাবুব আলম বলেন, প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল শুধু মুক্তিযুদ্ধের গেমসের প্লট তৈরি করতে। এ সময় আমরা দেখেছি, সব ঘটনা বর্ণনা করতে গেলে গেমটির কলেবর বড় হয়ে যাবে। পুরো ঘটনা গেমসে আনতে গেলে ২১টি পর্ব দরকার হবে, যা শেষ করতে ৬ বছরের মতো সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন বছরে প্রাথমিক ফ্রেমওয়ার্ক ও প্রথম পর্ব তৈরি হয়েছে। ম্যাসিভ যুদ্ধ '৭১-এর পুরো গল্পই প্রান্তিক মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনৈতিক নেতা সবাইকে ঘিরেই আবর্তিত হবে। এই গেম প্রযুক্তি বিশ্বের কাছে এ দেশের গৌরবময় যুদ্ধের বেশ ভালো একটি ধারার জন্ম দেবে। এই সঙ্গে গেম শিল্পে নতুন ধারা আনতে সক্ষম হবে। গেমটির ২১ পর্ব নির্মাণে দরকার হবে বিশাল এক কর্মী-বাহিনী। এত খরচের পরও গেমটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। গেমটি খেলতে কোনো টাকা খরচ করতে হবে না। এর খরচ আসবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের যৌথ তহবিল থেকে। বিশ্বে ১১০ বিলিয়ন ডলারের গেমসের মার্কেট আছে। আরও সাড়ে আটশ' বিলিয়ন ডলারের অ্যাডভার্টাইজিং মার্কেটের একটা অংশ গেমসে আসতে পারে।
কোন কোন মাধ্যমে চলবে
এখন পর্যন্ত ডেস্কটপ কম্পিউটারে খেলার জন্য গেমটি তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোনসহ অন্যান্য প্লাটফর্মের উপযোগী করা হবে এই গেম। এ ছাড়াও ভিআর প্রযুক্তিতেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
কোথায় পাবেন
'ম্যাসিভ যুদ্ধ ৭১' গেমটি বিনামূল্যে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইট (িি.িলঁফফযড়৭১.পড়স) থেকে ডাউনলোড করা যাবে। গেমটির হালনাগাদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved