শিরোনাম
 আতিয়া মহলে দুই জঙ্গি নিহত, ভেতরে আরও আছে: ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনী  আতিয়া মহলে অভিযান চলছে, গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ  জঙ্গিবাদ ছেড়ে সুপথে ফিরলে পুনর্বাসন: প্রধানমন্ত্রী  চুয়াডাঙ্গায় ট্রাক-ভটভটির সংঘর্ষে নিহত ১৩
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৭

প্রত্নের টানে ময়নামতি

কামরুননাহার ও জহিরুল ইসলাম
ভোরের আজান ধ্বনিত হওয়ার আগেই মোবাইল ফোনে দুলু ভাইয়ের নিরন্তর তাগিদ_ তাড়াতাড়ি রেডি হও, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস ছেড়ে যাবে। চোখভর্তি কাঁচা ঘুম ভেঙে শুরু হলো আমাদের প্রস্তুতির পালা। বাস দাঁড়িয়ে আছে কালীবাড়ি মোড়ের সমকাল কিশোরগঞ্জ অফিসের সামনে। সূর্য ওঠার আগেই সুহৃদ বন্ধুরা একে একে সেখানে জড়ো হতে থাকে। সবার মধ্যেই শিক্ষা সফরের সে কী উচ্ছ্বাস! এবারে আমাদের গন্তব্য কুমিল্লার ঐতিহাসিক ময়নামতি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হলেন আমাদের এই ঐতিহাসিক যাত্রার অভিভাবক সাইফুল হক মোল্লা দুলু ভাই এবং জাহাঙ্গীর আলম জাহান ভাই। একে একে বাসে তোলা হলো আনন্দ আয়োজনের সব উপকরণ। স্পিকার, মাইক্রোফোন, কন্টেইনার ভর্তি সুপেয় পানি এবং সকালের নাশতার জন্য পাউরুটি, জেলি, সিদ্ধ ডিম, কলা এবং আপেল বরই। সবাই এসে গেছে, বাকি শুধু সুরভী। সুরভীর আসতে দেরি দেখে সবাই উসখুস করছে। বার বার ফোন দেওয়া হচ্ছে সুরভীকে। কিন্তু তখনও সুরভীর পাত্তা নেই। ওকে রেখেই সকাল সোয়া ৬টায় বাস স্টার্ট করল। সুরভীর ভাগ্য এত প্রসন্ন যে, নগুয়া মোড়ে যেতেই আমদের বাস আটকা পড়ল কঠিন জটে। মিনিট দশেক সেখানে আটক থাকার মধ্যেই রিকশা নিয়ে হাজির হলো সুরভী। ওকে পেয়ে সবার উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে গেল। বাসের ভেতর তুমুল হর্ষধ্বনি আর সুহৃদ বন্ধুদের গান-কবিতার মধ্য দিয়েই ছুটে চলল বাস। পথে আশুগঞ্জের উজান-ভাটিতে সেরে নিলাম সকালের নাশতা। আবারও ছুটল বাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লায় পেঁৗছতে কেটে গেল সাড়ে চার ঘণ্টা। তখন সকাল পৌনে ১২টা। ময়নামতির মূল সড়কের পাশেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়্যার সেমিট্রি। এই স্থানে শুয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারানো সাত শতাধিক সাহসী সৈনিক। তাদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তৈরি বিস্তীর্ণ সবুজের এই চত্বরটি আজও হাজারো দর্শনার্থীর দৃষ্টি কেড়ে নেয়। সুহৃদ সদস্যরা এই ওয়্যার সেমিট্রি দেখে এবং জাহাঙ্গীর আলম জাহানের কাছ থেকে ইতিহাস জেনে আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে। এরপর বাস নিয়ে ময়নামতি বৌদ্ধবিহারের স্মৃতিময় ঐতিহ্য দর্শনে গিয়ে আবারও ইতিহাসের খেরোখাতা মেলে ধরেন আমাদের গাইড জাহান ভাই। সুহৃদ বন্ধুরা জেনে নেয় এই বৌদ্ধবিহারের গৌরবময় অতীত ইতিহাস। এখানে সবাই মিলে প্রচুর আলোকচিত্র গ্রহণ করে। ঘণ্টা দেড়েক এই স্থাপত্যশৈলী দর্শনের পর আমরা চলে যাই পার্শ্বর্বর্তী শালবন বিহারে। প্রচুর গাছগাছালি আচ্ছাদিত সবুজে ঘেরা এই বিহারে এসে চৈত্রের ঘাম ঝরানো তপ্ত দুপুরে প্রাকৃতিক শীতলতায় সবাই যেন বিমোহিত হয়ে পড়ে। এ এক অন্যরকম আনন্দ। আনন্দ ভ্রমণের ফাঁকে ইতিহাসের কাছে ফিরে যাওয়ার এই চমৎকার আয়োজনে নতুন কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছে সুহৃদ বন্ধুরা। বেলা ৩টার দিকে শালবন বিহারের টিলায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপিত কাসেম সাহেবের কাশবন নামক রিসোর্টে সারা হয় মধ্যাহ্নভোজ। চমৎকার দেশীয় পদ্ধতিতে রান্না করা খাবার খেয়ে সবাই ছিল পরিতৃপ্ত। সেখানে সামান্য বিশ্রামের পর পড়ন্ত বিকেলে ছুটে আসি কোটবাড়ির সেই ঐতিহাসিক বার্ড চত্বরে। সেখানে আমাদেরকে গাইড হিসেবে সহায়তা করেন স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, কিশোরগঞ্জের সন্তান মো. মুখলেছুর রহমান ভূঞা তপু। বার্ডের ভেতর প্রবেশ করে প্রথমেই চোখে পড়ল এই ঐতিহাসিক

প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা সাবেক আইসিএস আক্তার হামিদ খানের দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল। এরপর পুরো বার্ড এলাকা ঘুরে এই প্রতিষ্ঠানের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে বিশদ অবহিত হওয়ার সুযোগ ঘটে। এর মধ্যে কে একজন বলল, বার্ডে এসে নীলাচলের চূড়ায় না উঠলে প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্য সম্পর্কে অনেক কিছুই জানার বাকি থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে পিচঢালা চমৎকার পরিচ্ছন্ন সরুপথ বেয়ে আমরা ছুটলাম নীলাচলের দিকে। বার্ডের সবুজ গাছগুলো তখন শরীরে বুলিয়ে দিচ্ছিল বিকেলের সুশীতল আমেজ। মিনিট সাতেক হাঁটার পরই আমরা দল বেঁধে ইটের সিঁড়ি ডিঙিয়ে উঠে গেলাম নীলাচলের চূড়ায়। সবুজ গাছ আচ্ছাদিত চূড়ার বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট সিমেন্টের বেঞ্চ। পাশেই সুউচ্চ পানির আঁধার। তপু ভাই বললেন, দীপু নাম্বার-২ ছবিটির অনেক দৃশ্যায়ন এখানেই হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান এবং ছবি তোলার পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। আমাদের ফিরতে হবে আবার কিশোরগঞ্জে। তাই দুলু ভাই সবাইকে ফিরে চলার তাড়া দিলেন। ঘণ্টাখানেক বার্ড দর্শন শেষে আমরা ফিরে এলাম আমাদের নির্ধারিত বাসে। ইতিহাস, ঐতিহাসিক বিভিন্ন নিদর্শন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নৈকট্য থেকে সুহৃদ সদস্যরা চৈত্রের সন্ধ্যাকে সাক্ষী রেখে আবার কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করল। ফেরার পথে বাসে আবার ঐতিহাসিক ওইসব স্থানের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, কৌতুক আর গান পরিবেশন ও প্রতিযোগতার মধ্য দিয়ে রাত পৌনে ১২টায় আমাদের বাস ফিরে আসে কিশোরগঞ্জ শহরে। এই শিক্ষা সফরে প্রাণের টানে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছিল কিশোরগঞ্জ সুহৃদের সদস্য ওমর ফারুক, নজরুল ইসলাম, হারুন-অর-রশিদ ও

শান্তা পপি।

হ সহ-সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক

সমকাল সুহৃদ, কিশোরগঞ্জ
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved