শিরোনাম
 রাজধানী ও কুষ্টিয়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪  'রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এএসপি মিজান হত্যায় জড়িত'
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৭, ০২:১৬:৩৯
সরেজমিন: কুমিল্লা সিটি নির্বাচন

নেতাদের ভূমিকা নিয়ে চলছে গুঞ্জন

সাবি্বর নেওয়াজ ও মাসুক আলতাফ চৌধুরী কুমিল্লা থেকে
কুমিল্লা শহর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার একাংশ নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার ১৮টি ওয়ার্ড ও সদর দক্ষিণ উপজেলার ৯টি ওয়ার্ড। মোট ভোটারের প্রায় ৩০ ভাগ দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা। আর এই ৩০ ভাগ ভোটার হতে পারেন এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) সংসদীয় আসন সদর দক্ষিণ উপজেলার ওই অংশে পড়েছে। আর বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বাড়িও এই উপজেলায়। আগে তিনি এ এলাকার সংসদ সদস্যও ছিলেন। বিএনপির এ নেতার সঙ্গে এখন দূরত্ব চলছে দলীয় মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর। সদ্য বিদায়ী তিনজন কাউন্সিলর গতবার মনির চৌধুরীর সমর্থনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার গুঞ্জন রয়েছে, মনির চৌধুরী আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার পক্ষাবলম্বন করছেন। গতবার সাক্কু এই উপজেলার ৯ ওয়ার্ডে সীমার বাবা প্রতিদ্বন্দ্বী আফজল খানকে ৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। এবার এই ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোট রয়েছে ৬০ হাজার ৬২৯টি।

মন্ত্রী লোটাস কামাল এবার সীমার পক্ষে রয়েছেন। তার হয়ে এ উপজেলার চেয়ারম্যান ভাই গোলাম সরোয়ার সীমার নির্বাচন পরিচালনা করছেন। এলাকায় এসে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজের কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়েছেন মন্ত্রী লোটাস কামাল। যদিও একাধিক ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। সদ্য বিদায়ী দু'জন কাউন্সিলর মন্ত্রীর অনুসারী ছিলেন। সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মজুমদার দাবি

করেন, এবার তারা ৯টি ওয়ার্ডে নৌকার একচ্ছত্র বিজয় নিশ্চিত করবেন। তার মতে, প্রাপ্ত ভোটের ৭০ ভাগ তারা পাবেন।

বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'কোনো কেন্দ্রীয় নেতা আমার সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কথা বলেননি। প্রার্থী সাক্কু বা তার পক্ষে কেউ আমার কাছে আসেননি। ভোটও চাননি। আমার সঙ্গে কাউন্সিলর প্রার্থীদের যোগাযোগ রয়েছে।' এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমায় ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর মামলায় তাকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ। ওই মামলায় খালেদা জিয়াকেও হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এরপর থেকে গুঞ্জন রটেছে_ মনির চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন। সীমাকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখবেন। তার একজন বিশ্বস্ত অনুসারী জানিয়েছেন, মনিরুল হক চৌধুরী বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাক্কুর একজন বিশ্বস্ত অনুসারী বিএনপির কর্মিসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সীমার বাবা আফজল খানের সঙ্গে মনির চৌধুরী বৈঠকের অভিযোগ তোলেন। যদিও একই আসনে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় মন্ত্রী লোটাস কামালের সঙ্গে মনির চৌধুরীর সখ্য নেই।

দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা মাহবুব চৌধুরী কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি তুলেছেন, মনির চৌধুরী এলাকায় এসে সাক্কুর প্রচারে অংশ নিলে তারা নির্বাচনী কাজ থেকে বিরত থাকবেন। এ নেতার মতে, এখন আর মনির চৌধুরীর কোনো প্রভাব দক্ষিণে নেই। তিনি সীমার পক্ষে নেমেও তেমন কিছু করতে পারবেন না। মাহবুব চৌধুরী দাবি করেন, এতকিছুর পরও আমরা প্রাপ্ত ভোটের ৬০ ভাগের ওপরে ভোট পাব।

এদিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার একাধিক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুষ্ঠু ভোট হবে কি-না তা নিয়ে। সদর দক্ষিণ থানার ওসির বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ জানিয়েছেন মনিরুল হক সাক্কু। এ অভিযোগ তিনি নির্বাচন কমিশনেও পাঠিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন গতকাল সন্ধ্যায় তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল। তিনি বলেন, ঘুরে যাওয়া তিন নির্বাচন কমিশনার সভা করে প্রার্থীদের নিশ্চিত করেছেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। তারা প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি বোঝাতে 'মিনি ক্যান্টনমেন্ট হবে কুমিল্লা' বলেও সভায় উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, এরপর আর শঙ্কা থাকার কথা নয়।

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, লোটাস কামালের মেয়ে নাফিসা কামাল সদর দক্ষিণে সীমাকে নিয়ে গণসংযোগ করবেন। কৌশলগত কারণে ওই গণসংযোগ ২৪ মার্চের আগে হবে না। কারণ ১৮টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিভেদ দূর করতে সবাই এখন সদর উপজেলায় গণসংযোগে ব্যস্ত। সদরে ভোটের জোয়ার তোলার পর তারা সদর দক্ষিণে ভোট চাওয়া শুরু করবেন।

সীমার গণসংযোগ, উঠান বৈঠক :গতকাল রোববার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়াজুড়ী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন আঞ্জুম সুলতানা সীমা। এ সময় তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী ছিলেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম বিকেলে উঠান বৈঠক করেছেন ৬ নম্বর শুভপুর ওয়ার্ডে। গণসংযোগের সময় সীমা ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, শহরের জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন করবেন। সুযোগ দিলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাবেন।

সাক্কুর গণসংযোগ :মনিরুল হক সাক্কু সদর দক্ষিণের ২২ নম্বর ওয়ার্ড মোস্তাপুর চষে বেড়িয়েছেন। এ ছাড়া শহরের রানীর বাজার, অশোকতলা এলাকায় সাক্কুর পক্ষে গণসংযোগ করেছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে নিপুণ চৌধুরী। বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুকও অন্য এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার, শুভপুর, সাপাপাড়া, গাংচর ও বারপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন। সাক্কু গণসংযোগের সময় বলেন, পুলিশ লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি বাধাগ্রস্ত করছে। তাদের কর্মী দেলোয়ারকে পুলিশ অহেতুক ধরে নিয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved