শিরোনাম
 আতিয়া মহলে দুই জঙ্গি নিহত, ভেতরে আরও আছে: ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনী  আতিয়া মহলে অভিযান চলছে, গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ  জঙ্গিবাদ ছেড়ে সুপথে ফিরলে পুনর্বাসন: প্রধানমন্ত্রী  চুয়াডাঙ্গায় ট্রাক-ভটভটির সংঘর্ষে নিহত ১৩
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৭, ০৩:০৯:৫০

রেড জোন চট্টগ্রাম

১১ জেলার পুলিশ সুপারকে বিশেষ নির্দেশনা
সারোয়ার সুমন ও আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম

পাহাড় ও সাগরবেষ্টিত চট্টগ্রামকে ঘিরে আরও একাধিক আস্তানা গড়ে তুলেছে জঙ্গিরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে তিনটির সন্ধান মিললেও অজানা রয়েছে জঙ্গিদের আরও আস্তানা। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ঘিরে আরও জঙ্গি আস্তানা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় ১১ জেলার পুলিশ সুপারদের ডেকে গতকাল শনিবার 'বিশেষ নির্দেশনা' দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। পলাতক দশ জঙ্গি ও তাদের বিকল্প আস্তানা খুঁজতে বিভিন্ন জেলাকে বিশেষ জোনে ভাগ করে এলাকা ঘিরে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগকে 'রেড জোন' ধরে নিয়ে সব পুলিশ ফাঁড়ি, থানা ও চেকপোস্টে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।



এদিকে সীতাকুণ্ডের সাধন কুটির থেকে পালিয়ে যাওয়া চার জঙ্গিকে ওই ঘটনায় দায়ের মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ চারজনসহ পলাতক দশ জঙ্গিকে যে কোনো মূল্যে গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছেন ডিআইজি। তবে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পুলিশের এমন তৎপরতায় কৌশল পাল্টাচ্ছে জঙ্গিরাও। নজরদারি এড়াতে তারা আস্তানা গাড়ছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা কিংবা তাদের মালিকানাধীন বাড়িতে। চট্টগ্রামেই আরও আস্তানা আছে বলে নিশ্চিত গোয়েন্দারা। তারা এ বিষয়ে সতর্ক করে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন। পুলিশকেও কৌশল পাল্টাতে নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি। গতকাল শনিবার ১১ জেলার এসপির সঙ্গে বৈঠকে ওই নির্দেশনা পেঁৗছে দিয়েছেন চট্টগ্রামের ডিআইজি।



বৈঠকে উপস্থিত চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ১১ জেলার পুলিশ সুপারদের বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জঙ্গি নির্মূলে নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে বলেছেন ডিআইজি। চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বিভিন্ন এলাকাকে বিশেষ জোনে ভাগ করে কাজ করা হবে। বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, জঙ্গি নির্মূলে আমরা আগে থেকেই সক্রিয় ছিলাম। তবে এখন আমাদের কৌশলগত কিছু পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে।



চট্টগ্রামে আস্তানা গেড়েছে দশ জঙ্গি: পুলিশের ধারণা, সাধন কুটির থেকে পালিয়ে যাওয়া চারজন চট্টগ্রামের কোনো স্থানে ঘাঁটি গেড়েছে। এ অঞ্চলে নব্য জেএমবির সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা মায়নুল হোসেন ওরফে মুছাও আছেন চট্টগ্রামে। সামরিক প্রশিক্ষক হাদিছুর রহমান ওরফে সাগর ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান মোশারফ হোসেনও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। তাদের ঘনিষ্ঠ সহচর ফরহাদ ও মনিরের এ অঞ্চল ঘিরে আছে জানাশোনা। নিহত জঙ্গি মারজানের ভগি্নপতি সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা নসরুল্লা বোমা তৈরির কারিগর; তার বাড়ি জয়পুরহাটে হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেও আছেন চট্টগ্রামে। গোয়েন্দারা বলছেন, চট্টগ্রামে জঙ্গিদের আরও একাধিক বিকল্প আস্তানা রয়েছে।



চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামে পরপর কয়েকটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলেছে। বিকল্প আস্তানায় আছে আরও অন্তত দশ জঙ্গি। তাই চট্টগ্রামকে রেড জোন মনে করে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সচেতনতা বাড়াতে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ভাড়াটিয়াদের তথ্য যাচাই-বাছাই করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



পালিয়ে যাওয়া চার জঙ্গির নাম মিলেছে:  গত বুধবার সীতাকুণ্ডের পূর্ব আমিরাবাদের সাধন কুটিরে অভিযানের আগে পালিয়ে গিয়েছিল আরও চার জঙ্গি। গ্রেফতার দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সাংগঠনিক নাম জেনেছে পুলিশ। তবে বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। গ্রেফতারকৃতদের উদৃব্দতি করে পুলিশ জানায়, ওই চারজন হচ্ছে মো. রাশেদ, হৃদয়, সোহেল রানা ও শাহনাজ বেগম।



বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি ছাড়ে কামাল দম্পতি: সাধন কুটির থেকে গ্রেফতার দুই জঙ্গি হলো- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের যৌথ খামার পাড়ার নুরুল আলমের ছেলে জহিরুল হক ও তার স্ত্রী একই এলাকার প্রবাসী শফিউল আলমের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা। ছায়ানীড়ে নিহতদের মধ্যে দু'জন হলো- একই এলাকার মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে কামাল উদ্দিন ও নুরুল আলমের মেয়ে জোবাইদা বেগম। দু'জনই গ্রেফতার জঙ্গি জহিরের বোন-দুলাভাই। নিহত অন্য দু'জনের পরিচয় গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।



বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানান, নিহতের খবর পেয়ে জোবাইদা বেগম ও কামাল হোসেনের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কামালের বাবা তাকে জানান, প্রায় ৭ মাস আগে কক্সবাজারের ঈদগাহ কালির ছড়ায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর ফেরেনি।



জহিরুলের বাবা নুরুল আলম জানান, সন্তান প্রসবের আগেই সে তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। ছয় মাস আগে সন্তান প্রসবের পর স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গিয়ে জহির আর বাড়ি ফেরেনি। যাওয়ার সময় জোবাইদার ছোট বোন মনজি আরাকেও নিয়ে যায়। কামাল ও জহির দু'জনই জানিয়েছিল, তাদের পাওয়া যাবে না, প্রয়োজনে তারাই ফোন করবে। তবে সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় পরিবারের চারজনকে পাওয়া গেলেও মনজি আরা পারভিনকে পাওয়া যায়নি। অন্যকোনো জঙ্গি আস্তানায় সে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।



ছায়ানীড়ে এখনও মিলছে বিস্ফোরক: ছায়ানীড়ে অভিযান শেষের দু'দিন পরও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে যায় পিবিআই, সিআইডি ও সিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। ওই দলের সদস্যরা জানান, ছায়ানীড়ের একটি কক্ষ থেকে বোমা তৈরির কাঁচামাল পাঁচ ড্রাম হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পাওয়া গেছে। প্রতি ড্রামে রয়েছে ৪০ লিটার করে। এ ছাড়া তিন থেকে চার কেজি ওজনের ১৫টি বোমা এবং ৪০ লিটার এসিড পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।



লাশ নিতে আসেনি স্বজনরা: ছায়ানীড়ে নিহত জঙ্গি কামাল উদ্দিন ও জোবাইদার লাশ বুঝে নিতে আসেননি তাদের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল নিহতের পরিবারগুলোকে খবর দিতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় তারবার্তা পাঠায় সীতাকুণ্ড থানা। এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্থানীয় থানার কর্মকর্তারা। গতকাল বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আবু মুছা বলেন, বার্তা পাওয়ার পর নিহতদের লাশ বুঝে নিতে পরিবারগুলোকে বলা হয়েছে। প্রথমে তারা বিপথে যাওয়া সন্তানদের লাশ বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে লাশ আনতে যেতে রাজি হয়েছেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved