শিরোনাম
 রাজধানী ও কুষ্টিয়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪  'রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এএসপি মিজান হত্যায় জড়িত'
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৭, ০২:৪১:৪৮

বাতাসে জয়ের সুবাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৩৯ রানের লিড, ২ উইকেট নিয়ে আর কতদূরই বা যাবে লংকান ইনিংস? গত রাতে কল্পনায় হয়তো অনেকেই অনেক কিছু মিলিয়ে নিয়েছেন। সময় বের করে রেখেছেন আজ টেলিভিশনের সামনে মুশফিকদের শততম টেস্টের রেজাল্ট দেখার জন্য। আসলে ভারত সাগরপাড়ে কলম্বোয় টাইগারদের নিয়ে যে জয়ের সুবাস ছড়িয়েছে, হাজার মাইল দূরে থেকেও যেন তার ঘ্রাণ অনুভব করছেন সমর্থকরা। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, লক্ষ্য যা-ই আসুক, আজ জয় হবেই লংকায়। গতকাল সাকিব-মুস্তাফিজদের ক্ষিপ্র বোলিং দেখেই আশা দানা বেঁধেছে। প্রথম সেশনটিতে মাত্র এক উইকেট, দ্বিতীয় সেশনে সাকিব-মুস্তাফিজের দুর্দান্ত স্পেলে পাঁচ উইকেট, আর তৃতীয় সেশনে ডিআরএস নাটকের মধ্যে দুই উইকেট- সব মিলিয়ে আট উইকেটে লংকার স্কোর ২৬৮। দলের মুখপাত্র হয়ে মিডিয়ার সামনে আসা মোসাদ্দেক সৈকত বলেছেন, '১৬০ রানের মধ্যে লংকার লিড বেঁধে রাখার লক্ষ্য আমাদের।' পি সারা ওভালের অতীত বলছে, এই মাঠে ২৪৪ রানের নিচে যে কোনো লক্ষ্যই তাড়া করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের অতীত পরিসংখ্যান বলছে, চতুর্থ ইনিংসে দুইশ' রানের নিচে রান তাড়া করা টেস্টগুলোতে হয় জয় এসেছে, না হয় ড্র। তবে ড্র নয়, জয়ের আগমনী সুর বাজিয়েই আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে যে দলটি ৪৬৭ করেছে, তারা দ্বিতীয় ইনিংসে দুইশ' রানের টার্গেট তাড়া করতে পারবে না- এটা ভাবা অন্যায়। আর তাই নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলংকাকে প্রথমবারের মতো হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন টাইগার সমর্থকরা। যদিও আতঙ্ক থাকছে হেরাথকে নিয়ে। চতুর্থ ইনিংসে নিজেদের মাটিতে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার রেকর্ড আছে তার। তা ছাড়া শেষ তিনটি টেস্টের পঞ্চম দিনে উইকেট হারানোর রেকর্ড গড়েছেন মুশফিকরা। ভারতের বিপক্ষে ১৫৯ রানে ৭ উইকেট, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে ১৭৩ রানে অলআউট এবং ওয়েলিংটনে ১০০ রানে ৭ উইকেট খুইয়েছিল বাংলাদেশ! তবে আজ না হয় ওসব থাক, চিন্তা করা যাক নতুন ইতিহাস রচনার।

বিশেষ করে কাল দ্বিতীয় সেশনে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশি বোলররা তাতে করে লংকার লিড ১৩৯ ছাপিয়ে কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে তার একটা নির্দিষ্ট ধারণা নিশ্চয় রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। পি সারা ওভালে সর্বোচ্চ ৩৫২ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শ্রীলংকা করেছিল ওই রান। ২০১০ সালে লংকার দেওয়া ২৫৭ রান তাড়া করতে পেরেছিল ভারতও।

এদিন শুরুটা হয়েছিল বেশ দারুণ। দিনের দ্বিতীয় ওভারে মিরাজ তার প্রথম বলেই বোল্ড করেছিলেন উপল থারাঙ্গাকে। বলটি হালকা সুইং করে ভেতরের দিকে আসায় বুঝতে পারেননি থারাঙ্গা। এরপর অবশ্য প্রথম সেশনে আর কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা। ৮৩ রান তুলেছিল তারা সে সময়। মিরাজ, মুস্তাফিজ আর শুভাশীষকে দিয়েই এই সময়ে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছিলেন মুশফিক। কিছুটা দেরিতেই তিনি বোলিংয়ে এনেছিলেন সাকিবকে। হয়তো আগের ইনিংসে লম্বা সময় ব্যাটিং করার ক্লান্তির ব্যাপারটি বিবেচনায় এনেছিলেন মুশফিক। কিন্তু ২৩ ওভার পর যখন সাকিবকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক, তখন ধীরে ধীরে ম্যাচের রঙ বদলে যেতে থাকে। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। এ উইকেটের ব্যাপারে অবশ্য মুস্তাফিজের চেয়ে মুশফিকের প্রাপ্যই বেশি ছিল। তিনিই কানে কিছুর আওয়াজ শুনে ডিআরএস নিয়েছিলেন। থার্ড আম্পায়ারও তার রায়ে শব্দ শোনার মত দেন। যদিও আউটটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে।

কিন্তু এটাও তো ক্রিকেটেরই অংশ। এরপর দিলরুয়ান পেরেরার একটি নিশ্চিত এলবিডবি্লউ দেননি ফিল্ড আম্পায়ার। হাতে আর রিভিউ না থাকায় মুশফিকও থার্ড আম্পায়ারের কাছে যেতে পারেননি। মুস্তাফিজ দ্বিতীয় স্পেলেই জোড়া ধাক্কা দেন চান্দিমালকে ফিরিয়ে। অফস্টাম্পের বাইরের বল চালাতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছিলেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান। তখনও পি সারার গ্যালারি বুঝতে পারেনি সামনে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। সাকিব এরপর ফিরিয়ে দেন গুনারত্নেকে। সুইপ করতে গিয়ে এলবিডবি্লউ হয়ে যান, রিভিউ নেননি গুনারত্নে। উইকেটের পেছনে তখন যেন ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন অধিনায়ক মুশফিক। উইকেট পড়তে থাকার আনন্দের মধ্যেই দুর্দান্ত একটি ক্যাচ পাকড়াও করেন তিনি। ডিকওয়েলা সাকিবের বল প্যাডেল সুইপ খেলতে গিয়েছিলেন, ব্যাপারটি আগে থেকে আন্দাজ করতে পেরেই মুশফিক লেগের দিকে এগিয়ে এসে দারুণ ক্যাচ নেন। এর আগে মুস্তাফিজের বলে ডি সিলভার ক্যাচটিও গ্গ্নাভসবন্দি করেন তিনি। ওই স্পেলে মুস্তাফিজ ৭ ওভার বোলিং করেছিলেন কিন্তু সাকিব টানা ১২ ওভার বোলিং করে যান সেই সময়। এদিন তিনটি করে উইকেট শিকার করেন সাকিব আর মুস্তাফিজ। দ্বিতীয় সেশনে পাঁচ উইকেট পড়ার ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান করুনারত্নে আর নবম ব্যাটসম্যান দিলরুয়ান পেরেরা।

৯০ বল ক্রিজে কাটিয়ে পেরেরা ৬ রান করেছিলেন তখন, অন্যদিকে করুনারত্নে একটু একটু করে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। আর তেমনই সময়ে সাকিবের এক বলে স্লিপে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন করুনারত্নে। দিনের শেষ আধা ঘণ্টায় এরপর শুধু হেরাথকেই ফেরাতে পেরেছিলেন তাইজুল। তবে হেরাথও ডিআরএস নিয়ে একবার জীবন পেয়েছিলেন। শেষ বিকেলে লাকমলকে নিয়েও ডিআরএস পরীক্ষা চালিয়েছিলেন মুশফিক। সফল হওয়া যায়নি। তবে আজ এই লাকমলকেই সকাল সকাল ফেরানোর চ্যালেঞ্জ থাকবে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved