শিরোনাম
 হাওরে সাড়ে আট লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত  বিচারক ও আইনজীবীদের আরও মানবিক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী  বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জঙ্গি হামলা কমে যাবে: ওবায়দুল কাদের  সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না: ফখরুল
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৭, ০২:০৩:১৩

সুন্দরগঞ্জের সুনাম কার হাতে বাড়বে

শাহজাহান সোহেল ও আবদুল মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ থেকে
নামের সঙ্গে 'সুন্দর' শব্দটি ব্যবহার হলেও সুন্দরগঞ্জের সুনাম কমছে দিন দিনই। সাবেক তিন সংসদ সদস্যের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশব্যাপী আলোচনা হয়েছে সুন্দরগঞ্জ নিয়ে। ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় এ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেমন হবেন নতুন এমপি। কী রকম আচরণ হবে তার। কাকে নির্বাচিত করলে এলাকার সুনাম বাড়বে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সুন্দরগঞ্জে। পরবর্তী এমপির কাছে ভোটারদের প্রত্যাশা অনেক। সবার আগে ভোটাররা চাচ্ছেন সুন্দরগঞ্জের আগের সু-নাম ফেরাতে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুর পর শূন্য ঘোষিত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আলোচিত এ আসনের উপনির্বাচনে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ আর জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটারদের কাছ থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ সামনে রেখে মানুষের কাছে ভোটপ্রার্থনা করছেন গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়ানো গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন থেকে এবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলীয়ভাবে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সবার আস্থাভাজন। বিএনপি-জামায়াতের ভোট পুঁজি করে নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামা শামীম হায়দার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আইন উপদেষ্টা।

তবে উপনির্বাচনে সবকিছু ছাপিয়ে ভোটাররা খুঁজছেন ক্লিন ইমেজের একজন প্রার্থী যার হাত ধরে ফিরবে সুন্দরগঞ্জের সুনাম। অষ্টম, নবম আর দশম জাতীয় সংসদে সুন্দরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত তিন সংসদ সদস্যই সুন্দরগঞ্জের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। এই তিন সংসদ সদস্যই কারাগারে গেছেন। তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বদনাম হয়েছে সুন্দরগঞ্জের।

দশম জাতীয় সংসদে সুন্দরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মনজুরুল ইসলাম লিটন গুলিতে নিহত হওয়ার প্রায় এক বছর আগে তিনি সৌরভ মিয়া নামের এক শিশুকে গুলি করেন। এতে আহত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচিত হন এমপি লিটন। এ নিয়ে দায়ের করা মামলায় লিটনকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

এমপি লিটনকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান। কাদের খান নবম জাতীয় সংসদে সুন্দরগঞ্জ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এখন কারাগারে। এমপি থাকা অবস্থায় কাদের খান নির্বাচনী এলাকার যাবতীয় কাজ করতেন বগুড়ায় তার ক্লিনিকে বসে। নির্বাচনী এলাকায় একেবারেই কম আসতেন। এমপি থাকাকালীন তিনি একবার সুন্দরগঞ্জের

বড়ূয়ারহাটে জনতার রোষানলে পড়েন। গাড়ির বহরে হামলা করে জনতা তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে এমপি থাকার সময়েই তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে।

অষ্টম জাতীয় সংসদে সুন্দরগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবদুল আজিজ। তিনি এলাকায় ঘোড়া আজিজ নামে পরিচিত। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার আবদুল আজিজ মানুষ ভেবে আখক্ষেতে ঘোড়াকে গুলি করে হত্যা করেন। তখন থেকে তিনি ঘোড়া আজিজ হিসেবে পরিচিত। এমপি থাকা অবস্থায় নারীঘটিত বিষয়ে আবদুল আজিজ কারাগারে গেছেন। তখন তাকে জামায়াতে ইসলামীর 'মজলিসে শূরার' সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি আবদুল আজিজের ইন্ধনে সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানো হয়। ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ হামলায় চার পুলিশকে হত্যা করে জামায়াত-শিবির। এ ঘটনায় আজিজকে প্রধান আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে।

এ ছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অগি্নসংযোগ ও ভাংচুরের অভিযোগে ৩৭টি মামলায় আবদুল আজিজকে আসামি করা হয়। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় ২২ মার্চ হতে যাওয়া সুন্দরগঞ্জ আসনের উপনির্বাচনে ক্লিনম্যান কাউকে এমপি নির্বাচিত করতে চান ভোটাররা। সবার একটিই প্রত্যাশা কোনো এমপির কারণে যেন সুন্দরগঞ্জের বদনাম না হয়।

সুন্দরগঞ্জের বেলকা এমসি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব খোকন বলেন, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার কারণে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ৫০ বছরের জন্য পিছিয়ে গেছে। পিছিয়ে যাওয়া সুন্দরগঞ্জকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে একজন বলিষ্ঠ এমপি প্রয়োজন।

সুন্দরগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য রেজাউল আলম রেজা বলেন, সুন্দরগঞ্জে তারুণ্যের রাজনীতি প্রয়োজন। জংধরা সুন্দরগঞ্জকে পুনরায় রঙ লাগাতে গেলে তারুণ্যের রাজনীতি ছাড়া সম্ভব নয়।

সুন্দরগঞ্জের নারীনেত্রী নাসরিন সুলতানা বলেন, এলাকার সুনাম বাড়াতে দক্ষ ও বলিষ্ঠ রাজনীতিবিদ প্রয়োজন।

সুন্দরগঞ্জ ডি ডবি্লউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএমএ হাবিব সরকার বলেন, একজন শিক্ষিত ব্যক্তি হাল ধরলে পিছিয়েপড়া সুন্দরগঞ্জকে অতি তাড়াতাড়ি সামনে এগিয়ে আনা সম্ভব।

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবারের ওই ঘটনায় একজন আহত হন। প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে সোনারায় ইউনিয়নের খামার মনিরাম স্কুলের বাজারে রফিকুল ইসলামের চায়ের দোকানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক আশেক আলী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সমর্থক আবদুল মালেকের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে আশেক আলীর ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে আবদুল মালেকের মাথা ফেটে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই প্রার্থীর বেশ কিছু সমর্থক ঘটনাস্থলে এসে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার ছিড়ে ফেলেন। খবর পেয়ে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এমএম আশিক রেজা পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের ডেকে বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তির ব্যাপারে সতর্ক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved