শিরোনাম
 আদিলুরকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া   ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন  ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ  আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা শুক্রবার
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৭, ০১:৪৭:১৯

ভাটায় পুড়ছে শাল-গজারি

কালিয়াকৈর: প্রভাবশালীরা জড়িত, অভিযোগ এলাকাবাসীর
এম তুষারী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের কুতুবদিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে অবাধে অবৈধ কয়লার ভাটায় পুড়ছে শাল-গজারি কাঠ। সরকারি বনজঙ্গল থেকে রাতের আঁধারে কাঠচোররা কাঠ কেটে এনে এই অবৈধ কয়লার ভাটায় বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। এ কয়লার ভাটায় সরকারি দলের প্রভাবশালীরাও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া সড়ক দিয়ে দুই কিলোমিটার এগোলেই কুতুবদিয়া গ্রাম। তিন মাথা সড়ক ধরে আজগানার পথে এগিয়ে গিয়ে দেখা গেলো মসজিদের মিনারের মতো অর্ধশতাধিক অবৈধ কয়লার ভাটা। কালো আর সাদা ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আছন্ন হয়ে রয়েছে। বাতাসে মিশে আজগানা গ্রামের ওপর দিয়ে এ কালো ধোঁয়া চলে যাচ্ছে উত্তরের দিকে। কালো ধোঁয়ায় পাশের ফসলের জমি যেন মরমর অবস্থা হয়ে পড়েছে। কয়লার ভাটায় ৫-৬ জনের একদল শ্রমিক শাল গজারি ও আম গাছের গুঁড়ি ভেতরে ঢুকাতে দেখতে পাওয়া যায়। শ্রমিকদের কাছে তাদের মালিকের নাম জানতে চাওয়া হলে তারা চেনেন না বলে জানান। অর্ধশতাধিক কয়লার ভাটার সামনে শত শত মণ কাঠ এবং বস্তায় ভরা কয়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়। অপর দিকে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার আজগানা গ্রামের এ রকম কয়েকটি অবৈধ কয়লার ভাটা দেখা যায়।

আব্দুল করিম নামের এক শ্রমিক জানান, এ কয়লার ভাটার মালিকরা প্রতিবস্তা কয়লা ঢাকায় ৫শ' টাকা করে বিক্রি করে। তবে কাঠ কিনে ও পুড়িয়ে এবং শ্রমিক খরচ বাদে ভালোই লাভ থাকে। তবে কত লাভ করে, তা আমাদের জানা নেই। এদিকে কয়লার ভাটার কালো ধোঁয়ায় মরে যাচ্ছে গাছ-গাছালি। পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। কাঠচোরদের কারণে বিলীন হচ্ছে সরকারি বনের শাল-গজারি কাঠ। রেজাউল করিম, রুবেল হোসেন, মালেক মিয়া, মোশারফ হোসেন দেওয়ান ওই সব অবৈধ কয়লার ভাটার মালিক বলে জানা গেছে।

বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ওইসব অবৈধ কয়লার ভাটার মালিক বনের শালকাঠ কেটে পুড়ছে। ওই কয়লার ভাটার পাশ দিয়ে কালিয়াকৈর বাজারগামী পথচারী রস্তম আলী মুখে রুমাল দিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। পথচারী রুস্তম আলী জানান, কাঁচা গাছ পোড়ানো ধোঁয়ায় নাকে মুখে গিয়ে শ্বাস কষ্ট হয়। তাই রুমাল মুখে দিয়েই এ সড়কে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

কয়লার ভাটার পাশের জমির মালিক কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, এই কয়লার ভাটা বানানোর কারণে জমির ফসল উৎপাদন অর্ধেক কমে এসেছে। প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।

কয়লার ভাটার ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, আমি কাঠ সাপ্লাই দেই। কয়লার মালিক এক মণ কাঠ ১১০ টাকা দেয়। তাই এলাকা থেকে গাছ কিনে এ কয়লার ভাটায় দেই। পরে আনোয়ার হোসেন কয়লার ভাটার মোশারফ হোসেন নামের এক মালিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলান। আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে মোশারফ হোসেন প্রথমে এ প্রতিবেদককে ধমকিয়ে বলেন, তুমি কার অনুমতি নিয়ে কয়লার ভাটায় এসেছ। তোমার সভাপতির সঙ্গে কথা বল। পরে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন লাইন কেটে দেন।

কয়লার ভাটার মালিক মোশারফ হোসেন জানান, এ কয়লার ভাটা অবৈধ থাকলেও স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের কিছু লোক ম্যানেজ করেই চালাচ্ছি। পরে তিনি আরেক মালিক রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।

কয়লা ভাটার আরেক মালিক রেজাউল করিম জানান, ভাই পত্রিকায় খবর দেওয়ার দরকার নাই। যেখানে যা লাগে দেব। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের ব্যবসার কোনো ক্ষতি করবেন না।

কালিয়াকৈর রেঞ্চ কর্মকর্তা তাপস কুমার জানান, অবৈধ কয়লার ভাটায় শাল কাঠ পোড়ানোর তথ্য আমার জানা নেই। তবে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে অভিযান চালানো হবে। ইউএনও মো. সানোয়ার হোসেন জানান, কয়লার ভাটার তথ্য আমার জানা নেই। তবে খবর নিয়ে ২-৩ দিনের মধ্যেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সব অবৈধ কয়লার ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved