শিরোনাম
 সুজানগরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা  ফের গণমাধ্যমের ওপর চড়াও ট্রাম্প  এসপানিওলকে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৭, ০১:০৮:১২

এফডিআই বাড়াতে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়

বিনিয়োগ সংলাপে ব্যবসায়ীরা
সমকাল প্রতিবেদক
সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগকারীদের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। এ জন্য নীতি সংস্কারেরও প্রস্তাব এসেছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। বছরের পর বছর আলোচনার পরও বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসা সহজ করায় সূচকগুলোতে দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

গতকাল শনিবার সোনারগাঁও হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিড) আয়োজিত 'বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন :নীতি সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার' শীর্ষক সংলাপে কয়েকজন ব্যবসায়ী এসব কথা বলেন। তারা আইন ও বিধি সংস্কারে রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশনের মতো একটি সংস্থার গঠনের দাবি জানান। বিনিয়োগ বোর্ড এবং বেসরকারিকরণ কমিশন এক করে গঠিত বিডা যেন আগের মতোই আমলাতান্ত্রিক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় সেই দাবি তোলেন ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার অর্থনেতিক উন্নয়নের যে লক্ষ্য নিয়েছে তা অর্জনে বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। পাশাপাশি রফতানি বহুমুখীকরণ জরুরি। কেবল মাত্র তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর ভর করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জিত হবে না। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের হতাশ না হয়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ গতিশীল করতে করসহ অন্যান্য খাতে সংস্কার করা হবে।

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিডার সদিচ্ছা থাকতে হবে। স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে গোষ্ঠীস্বার্থের বাইরে থাকতে হবে। তিনি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য জমির অপ্রতুলতা দূর করা, জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানো, অবকাঠামো দুর্বলতা দূর করা ও নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার পরামর্শ দেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, বিডা শুধু এফডিআই নয়, সামগ্রিক বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করছে। বিনিয়োগ উন্নয়নের জন্য সেবার মান বাড়ানো ও নীতিতে সংস্কার আনা হবে। এফডিআই আকর্ষণে সর্বোচ্চ শিথিলতা দেখানো হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশিদের ভিসা সহজ করার জন্য ই-পাসপোর্ট ও ই-ভিসা পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মূল প্রবন্ধে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে সেবার মান বাড়াতে হবে। তিনি বেজা, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিনিয়োগের প্রধান দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টির প্রস্তাব করেন।

এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি নাসিম মঞ্জুর বলেন, এফডিআইর জন্য মানসিকতা বদলাতে হবে। কোন দেশ থেকে কী রঙের (কালো না সাদা) অর্থ আসছে সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে কোন খাতে বিনিয়োগ হবে, কত কর্মসংস্থান হবে সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও মরিশাস থেকে বিনিয়োগ আসছে ভারতে। বাংলাদেশের সেক্ষেত্রে অসুবিধা কোথায়- প্রশ্ন রাখেন তিনি। এফডিআই বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ আছে এমন বহুজাতিক কোম্পানিকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নিয়োগ করা এবং নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সমঝোতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন নাসিম মঞ্জুর।

এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের সার্বিক অবস্থা বাংলাদেশের তুলনায় খারাপ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বেশি এফডিআই কেন যাচ্ছে তা ভাবতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও আবরার এ আনোয়ারও বিদেশে অর্থ পাঠানোর জটিলতা দূর করার প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে বিল্ডের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল আহমেদ, বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, আইএফসির মাশরুর রিয়াজ, বেজার এমদাদুল হক, আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মঈনুদ্দিন মোনেম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved