শিরোনাম
 ভাস্কর্য সরানোর বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৪  বাসের ধাক্কায় জাবির দুই শিক্ষার্থী নিহত  খুলনায় বিএনপি নেতা হত্যার প্রতিবাদে শনিবার হরতালের ডাক   সরানো হলো সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩:০৩:৩৬ | আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০২:০১:৪২
গাইবান্ধা-১ উপনির্বাচন

জাপা নেতা ও সাবেক এমপি কাদের 'গৃহবন্দি'

বগুড়া ব্যুরো ও সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি নেতা কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানকে বগুড়ায় তার মালিকানাধীন ক্লিনিক-কাম বাসভবনে কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাদা পোশাকের এক দল পুলিশ বগুড়া শহরের রহমাননগর জিলাদারপাড়া এলাকায় জাতীয় পার্টি নেতা ডা. কাদের খানের মালিকানাধীন 'গরীব শাহ্্' ক্লিনিকে অবস্থান নেয়। তিনি ওই ক্লিনিকের চারতলায় সপরিবারে বসবাস করেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। ভবনের ভেতরে এবং বাইরে সাদা পুলিশের পাশাপাশি কিছুটা দূরে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদেরও অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।



সূত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং বগুড়া জেলার স্পেশাল ব্রাঞ্চের (ডিএসবি) সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। বগুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। কোনো কিছু হয়ে থাকলে সেটা গাইবান্ধা পুলিশ জানে। ডা. আবদুল কাদেরের স্ত্রী ডা. জে ইউ নাসিমা বেগম বলেন, বাড়িতে কেন পুলিশ এলো সে ব্যাপারে তাকেও পরিষ্কার করে কিছু জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই তারা এসেছে।



জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আবদুল কাদের খান ২০০৮ সালে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে দলের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পেশায় চিকিৎসক আবদুল কাদের খান বগুড়া থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক উত্তরের খবর' নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি আর অংশ নেননি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা মনজুরুল ইসলাম লিটন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মনজুরুল ইসলাম লিটন খুন হলে ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ওই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ সেখানে ভোট গ্রহণ হবে।



দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাবেক এমপি জাতীয় পার্টি নেতা ডা. আবদুল কাদের খান আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় গাইবান্ধা-১ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছেন। আগামীকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। তবে ওই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনিও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ডা. আবদুল কাদের খান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি নন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ডা. আবদুল কাদের খানকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই চাপ সৃষ্টির এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।



গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আমাদের সংবাদদাতা আবদুল মান্নান আকন্দ জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টি নেতা সাবেক এমপি ডা. আবদুল কাদের বগুড়ায় আসার একদিন আগে বুধবার পর্যন্ত তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেই অবস্থান করছিলেন। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশের একটি দল তার গ্রামের বাড়িতে যায় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ফিরে আসে। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান সমকালকে বলেন, 'আমরা মূলত তার নিরাপত্তার সংক্রান্ত খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্যই সেখানে গিয়েছিলাম। এর বাইরে আর কোনো কারণ ছিল না।'



গতকাল শুক্রবার বিকেলে বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় জিলাদারপাড়া এলাকায় গরীব শাহ্্ ক্লিনিকের সামনে গিয়ে দেখা যায় সাদা পোশাকের বেশ কয়েকজন পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া ওই ক্লিনিকের অন্তত ২০ গজ দূরে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে আরও অন্তত ১০ জন পোশাকি পুলিশকেও বসে থাকতে দেখা গেছে। সাংবাদিকরা গরীব শাহ্্ ক্লিনিকের চার তলায় বসবাসরত ডা. আবদুল কাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাদা পোশাকধারীরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা পুলিশ। ওপরের নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে কারও দেখা করার অনুমতি নেই।' ঘটনাস্থলে থাকা বগুড়া ডিবি পুলিশের এক কনস্টেবল জানান, গাইবান্ধা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল ডা. কাদের খানের মালিকানাধীন ক্লিনিক কাম বাড়ির ভেতরে-বাইরে অবস্থান নিয়েছে। তবে সঙ্গে বগুড়ার স্পেশাল ব্রাঞ্চের কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছে।



পুলিশি বাধায় বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে সাংবাদিকরা ডা. আবদুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তার স্ত্রী ডা. জে ইউ নাসিমা বেগমের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হয়। সমকালকে তিনি বলেন, 'বুধবার রাত ৯টার পর সাদা পোশাকের একদল পুলিশ আমাদের ক্লিনিক ও বাড়িতে আসে। তারা আমাদের বলেন সংসদ নির্বাচনে যারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তাদের সবারই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আমাদের বাড়িতেও পুলিশ পাঠানো হয়েছে।' ডা. আবদুল কাদেরকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পুলিশ তো কিছুই বলছে না। শুধু নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলছে।' হঠাৎ করে পুলিশের এমন তৎপরতায় অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, 'কেউ কিছুই বলছে না। আবার চোখের সামনে থেকে পুলিশ সরছেও না।' নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার স্বামী এর আগে সুন্দরগঞ্জের এমপি ছিলেন। এলাকার মানুষ আবারও তাকে এমপি হিসেবে দেখতে চান। সে কারণে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি নির্বাচন করবেন। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।'



ডা. আবদুল কাদেরের বগুড়ার বাসভবনে সাদা পোশাকের পুলিশের উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। কোনো কিছু হয়ে থাকলে সেটা গাইবান্ধা পুলিশ বলতে পারবে।'


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved