শিরোনাম
 সিলেটের বাড়িতে ফিরেছেন খাদিজা  অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট  খুলনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থি নেতা হাত কাটা জিয়া নিহত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০১:৪০:০৭
সমকালের আয়নায় পুরান ঢাকা

খোকার দুর্গে আব্বাসের হানা

রাজনীতি ২ : বিএনপিতে চলছে নেতৃত্ব দখলের লড়াই
লোটন একরাম

নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে পুরান ঢাকার বিএনপিতে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল ও গ্রুপিংয়ে লিপ্ত নেতাকর্মীরা। চলছে নেতৃত্ব দখলের লড়াই। সাদেক হোসেন খোকার অনুসারীদের হটিয়ে মির্জা আব্বাসের ভক্তরা নেতৃত্বের আসনে বসতে মরিয়া। কয়েকটি জায়গায় হামলায় পণ্ড হয়েছে সম্মেলনও। গঠিত হয়েছে পাল্টাপাল্টি কমিটি। তবে মাঠের কোনো কর্মসূচিতে থাকেন না কোনো কমিটির নেতাই। অবশ্য নাশকতার মামলায় কেউ জেলে, কেউ পলাতক, জামিন নিয়ে বাইরে এসেও নিষ্ক্রিয় রয়েছেন অনেকে। সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও রয়েছে কারও কারও বিরুদ্ধে। বিবদমান দুই গ্রুপের একে অন্যের বিরুদ্ধে তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করারও অভিযোগ আনছেন। জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নেতাদের কেউ কেউ আবার বাসা নিয়েছেন নতুন ঢাকায়। কার্যত কাণ্ডারিবিহীন তরীর মতোই চলছে ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পুরান ঢাকার আট থানা বিএনপির রাজনীতি। একসময়ে বিএনপির সভা-সমাবেশগুলোতে বড় বড় সব মিছিল আসত পুরান ঢাকা থেকেই। অবশ্য ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকেই বদলে যায় দৃশ্যপট। এরপর আন্দোলনের কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে আসেননি কোনো নেতা। পুরান ঢাকায় বিএনপির কাণ্ডারি সাদেক হোসেন খোকা অসুস্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন। অপর প্রভাবশালী নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। এতে তৈরি হয়েছে নেতৃত্বশূন্যতা এবং চলছে নেতৃত্ব দখলের দ্বন্দ্বও।

এ পরিস্থিতিতে মামলা-হামলা থেকে রক্ষায় স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলররা চলছেন গা বাঁচিয়ে। বর্তমানে সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতোয়ালি, বংশাল, লালবাগ, চকবাজার ও হাজারীবাগের একাংশসহ ৮টি থানা পড়েছে পুরান ঢাকায়। এর মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওয়ারী ও বংশাল থানায় বিএনপির কোনো কমিটি নেই। বাকি থানাগুলোর কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে তিন থানার আহ্বায়ক মৃত্যুবরণ করেছেন অনেক আগেই।

অবশ্য এ বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও পুরান ঢাকা থেকে বিএনপির পাঁচজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তারা হলেন_

২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার পারভেজ বাদল, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম রাসেল, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে মকবুল ইসলাম খান টিপু, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে এমএ সাহেদ মন্টু এবং ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল কাদির। তারা সবাই খোকার অনুসারী। তবে আব্বাস অনুসারীরা বলছেন, এরা সবাই সংস্কারপন্থি ছিলেন। সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেই তারা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের নামে কোনো মামলা হয় না, পুলিশ খোঁজে না। জবাবে কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু সমকালকে বলেন, এই অভিযোগ দুঃখজনক। মূলত এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় বিজয়ী হয়েছেন তারা। অপর কাউন্সিলর এমএ সাহেদ মন্টু বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা। ২২ বছরের কাজ মূল্যায়ন করে জনগণ ভোট দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃত্বে মির্জা আব্বাস এলে পুরান ঢাকায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন দীর্ঘদিন ধরে কমিটিতে থাকা খোকাপন্থি নেতারা। এখন খোকার অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে আব্বাস গ্রুপ। তবে বেশ কয়েকটি জায়গায় খোকাপন্থিরা হামলা করে পণ্ড করে দিয়েছেন সম্মেলন। এ পরিস্থিতিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বাধীন মহানগর কমিটি ঘরোয়া কর্মিসভা করে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের জন্য কমিটি তৈরি করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চাইলে ওইসব কমিটি জমা দেবেন তারা। তবে লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দিয়ে আব্বাসের অনুসারীদের নিয়ে একতরফা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সক্ষম হন খোকা। একইসঙ্গে তার অনুসারী দলের অর্থনৈতিক সম্পাদক ও নগর কমিটির সাবেক সদস্যসচিব আবদুস সালামের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার কাছে পুরান ঢাকার প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে পাল্টা পৃথক কমিটি জমা দেন। তবে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি আবদুস সালাম। পাল্টা কমিটি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন আব্বাস অনুসারীরা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সমকালকে বলেন, কমিটি গঠনে তারা কার লোক তা দেখেননি। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি করেছেন। এখন 'অজ্ঞাত' কারণে ঘোষণা করা যাচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো কোনো জায়গায় কিছু সমস্যা আছে। খোকার সঙ্গে গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি এও বলেন, হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে কিছুটা মানসিক দ্বন্দ্ব আছে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকা টেলিফোনে সমকালকে বলেন, অনেক রক্ত ঝরিয়ে এবং জেল-জুলুম মাথায় নিয়েই পুরান ঢাকা তথা রাজধানীকে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলাম। বর্তমানে যারা মহানগরের দায়িত্ব পেয়েছেন_ আশা করি, দলের এই ক্রান্তিলগ্নে তারা কে কার অনুসারী, তা বিবেচনা না করে অভিজ্ঞ, ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করবেন।

অবশ্য নগরীর নেতৃত্বে না থাকায় খোকার অনুসারীদের কেউ কেউ মির্জা আব্বাসের গ্রুপে যোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাসার গ্রুপ পরিবর্তন করলেন। অথচ একসময় এই বাসার ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি সাদেক হোসেন খোকার 'গাঁটছড়া' (একান্ত অনুগত) বলে পরিচিত ছিলেন। এখন তিনি বর্তমান ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের আনুগত্য বরণ করে নিয়েছেন। খোকা মেয়র থাকাকালে কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি এবং একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরও ছিলেন। ঢাকার নেতৃত্ব থেকে খোকাকে সরিয়ে দেওয়ার পর এখন 'গুরু' পরিবর্তন করে মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হতে চান আবুল বাসার। মির্জা আব্বাস তার প্রস্তাবিত কমিটিতে মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে আবুল বাসারের নাম রেখেছেন। পক্ষ বদলের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বাসার এখন রাতে নতুন ঢাকায় থাকেন।

অবশ্য ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাসার সমকালকে বলেন, 'আমি কারও পকেটের লোক নই। সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে থাকাকালে সহসভাপতি হিসেবে আমি কাজ করেছি। এখন মির্জা আব্বাস নগর বিএনপির আহ্বায়ক হওয়ায় তার সঙ্গে কাজ করছি। এতে কেউ ভুল বুঝলে_ এটা আমার জন্য দুঃখজনক হবে।'

সূত্র জানায়, গেণ্ডারিয়ায় ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে গিয়ে কর্মী সম্মেলনের সময় খোকাপন্থিদের ধাওয়া খান কাজী আবুল বাসার। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রধান অতিথি ও নগরীর অপর যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিশেষ অতিথি হিসেবে যাওয়ার কথা থাকলেও যাননি। কয়েকদিন পরে ওয়ারীর সানাই কমিউনিটি সেন্টারে ওয়ার্ডের কর্মিসভা করতে গেলেও হামলা চালান খোকাপন্থিরা। পুলিশের সহায়তায় বাসার স্থান ত্যাগ করেন। আব্বাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণে কাজী আবুল বাসারকে সভাপতি এবং ইউনুস মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব করেছেন খালেদা জিয়ার কাছে। অন্যদিকে খোকা প্রস্তাব করেছেন আবদুস সালামকে সভাপতি ও নবীউল্লাহ নবীকে সাধারণ সম্পাদক করার।

আট থানায় গ্রুপিং, পাল্টাপাল্টি কমিটি :বর্তমানে সূত্রাপুর থানায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমএ সাহেদ মন্টু সভাপতি ও আবদুস সাত্তার সাধারণ সম্পাদক। তারা দু'জনই খোকার অনুসারী। মহানগর বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ফরিদউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুস সাত্তারের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে সভাপতি পদের ফরিদউদ্দিন আব্বাসপন্থি। খোকার পক্ষ থেকে বর্তমান কমিটির দু'জনের নাম দিয়েই পাল্টা আরেকটি কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি পদে প্রস্তাবিত ফরিদউদ্দিনের বিরুদ্ধে একসময় লালকুঠিতে জুয়ার বোর্ড বসানোর অভিযোগ করছেন খোকাপন্থিরা। তবে ফরিদউদ্দিন দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের নেতৃত্বে থাকার সময় সরকারের অনুমতি নিয়ে তা করেছেন।

সূত্রাপুর থানা ভেঙে গেণ্ডারিয়া থানা গঠন করা হয়। সাদেক হোসেন খোকার বলয়ের বর্তমান সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম টিপু ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল কাদের রয়েছেন। নগর বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতি পদে তারেক জামান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ওয়াসেক বিল্লাহর নাম রাখা হয়েছে। তারা দু'জনই মির্জা আব্বাস বলয়ের লোক। অন্যদিকে খোকা তার অনুসারী বর্তমান কমিটির দু'জনকেই আবারও একই পদে রাখতে পাল্টা কমিটি জমা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, নগর বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে গেণ্ডারিয়া থানার সভাপতি পদপ্রার্থী তারেক জামান আব্বাসের গ্রুপে যোগ দিয়েছেন। তিনি ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করছেন খোকাপন্থিরা। তবে তারেক জামান সমকালকে বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি সিগারেটও খান না। যারা দলের বিপক্ষে কাজ করছেন তারাই এসব বলছেন।

সূত্রাপুর থানা ভেঙে নতুন থানা ওয়ারী গঠন করা হয়েছে। দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কারণে আজ পর্যন্ত ওই থানায় কোনো কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। মহানগর বিএনপির সাবেক কাউন্সিলর খোকাপন্থি লিয়াকত আলীকে সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আব্বাসপন্থি তারিক হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখে কমিটি প্রস্তাব করেছে। তবে খোকা গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক পদে সাবি্বর মো. আরিফকে চেয়ে পাল্টা কমিটি জমা দিয়েছে। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান মনা সভাপতি এবং সাবি্বর আহমেদ আরিফ সাধারণ সম্পাদক পদ চান।

কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি হাজি হোসেন মোল্লা মৃত্যুবরণ করেছেন। সদস্যসচিব পদে রয়েছেন মোহাম্মদ মোহন। দু'জনই খোকার অনুসারী। মহানগর কমিটিতে সভাপতি পদে মোশাররফ হোসেন রিপন ও সাধারণ সম্পাদক পদে হায়দার আলী বাবলার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে খোকার পক্ষ থেকে আনোয়ারুল আজিম ও সাধারণ সম্পাদক পদে আশরাফুল আমিনের নাম প্রস্তাব করা হয়। এর বাইরে সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদউল্লাহ জুয়েল সভাপতি এবং সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহ ব্যক্ত করে লবিং চালাচ্ছেন।

কোতোয়ালি ভেঙে বংশাল থানা করা হলেও কোন্দলের কারণে দীর্ঘদিন কোনো কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। সভাপতি পদে লতিফ উল্লাহ জাফরুল ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. তাইজুদ্দিন তাইজুর নাম রেখেছ আব্বাস গ্রুপ। এখানে জাফরুল আব্বাসপন্থি এবং তাইজু খোকাপন্থি। খোকার পক্ষ থেকে সভাপতি পদে জাফরুলের পরিবর্তে সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোহনের নাম দিয়ে কমিটি প্রস্তাব করেছে। এর বাইরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমদের অনুসারী আরিফুর রহমান নাদিমও সভাপতি হতে জোর লবিং করছেন।

এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বংশালের বাসিন্দা ইসহাক সরকারও খোকার বিপক্ষে। খোকার নির্বাচনী এলাকা বৃহত্তর কোতোয়ালি থানা ও ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালেও শীতল সম্পর্ক ছিল ইসহাকের। পিন্টুর অনুসারী ইসহাকের বিরুদ্ধে দলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বহু মামলার আসামি ইসহাক বর্তমানে পলাতক।

দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে লালবাগ থানায়। এ থানার বিএনপির সাবেক কাউন্সিলর হাজি আজিজ উল্লাহ আজিজ মৃত্যুবরণ করেছেন। সদস্যসচিব পদে রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর হাজি মোশাররফ হোসেন খোকন। দু'জনই খোকার অনুসারী। কোন্দলের কারণে লালবাগ থানা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনে কোনো নাম প্রস্তাব করেনি মহানগর বিএনপি। এ এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু গ্রুপের বর্তমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা। তিনি সভাপতি পদে আলতাব হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বদরুল আলম সুইটের নাম প্রস্তাব করেছেন।

অন্যদিকে পিন্টুর প্রতিপক্ষ বলয়ের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর আশরাফ আলী আজম সভাপতি এবং মোশাররফ হোসেন খোকন সাধারণ সম্পাদক পদে জোর তদবির চালাচ্ছেন। তবে দু'গ্রুপের দ্বন্দ্ব-কোন্দল চরম পর্যায়ে। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। লালবাগ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোরশেদের সঙ্গে পিন্টুর বিরোধ থাকলেও দু'জনের মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। মোর্শেদের স্ত্রী সাহিদা মোরশেদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। পিন্টুর স্ত্রী ও তার ছোট ভাইয়ের মধ্যেও চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি এখন গুলশানে থাকেন।

লালবাগ থানা ভেঙে চকবাজার থানা করা হয়েছে। নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলের কারণে এই থানায়ও সাবেক কাউন্সিলর মরহুম হাজি আজিজ উল্লাহ আজিজই আহ্বায়ক ছিলেন। সদস্যসচিব পদে সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার পারভেজ বাদল রয়েছেন। নগর কমিটি পিন্টুর অনুসারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার পারভেজ বাদলকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে টিপু সুলতানের নাম প্রস্তাব করে কমিটি জমা দিয়েছে। পৃথক নিজস্ব বলয় তৈরি করে আবদুল মোতালেব সভাপতি এবং পিন্টুর অনুসারী খতিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী।

হাজারীবাগ থানার আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর রমজান আলী হিরু নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তার সঙ্গে সদস্যসচিব পদে রয়েছেন আবদুল আজিজ। তিনি কোনো গ্রুপে নেই। প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতি পদে মজিবুর রহমান মজু ও সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সদস্যসচিব আবদুল আজিজের নাম। এর বাইরে মির্জা আব্বাসের অনুসারী রফিকুল ইসলাম রফিক সাধারণ সম্পাদক পদে লবিং চালাচ্ছেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved