শিরোনাম
 বিচারকদের চাকরি বিধিমালার খসড়া প্রধান বিচারপতির কাছে  বাড়ল স্বর্ণের দাম  মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাজেহাল করছে সরকার: ফখরুল  দোষারোপ করে জলাবদ্ধতার সমাধান হবে না: ওয়াসার এমডি
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০১:৫৮:০৪

দায়িত্বে ব্যর্থতা, ছিল না সুরক্ষার ব্যবস্থাও

আশুলিয়ার কারখানায় আগুন নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন
বকুল আহমেদ

ঢাকার আশুলিয়ার জিরাব এলাকার গ্যাসলাইটার তৈরির কারখানা কালার ম্যাক্স (বিডি) লিমিটেডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই কারখানায় পর্যাপ্ত অগি্ননির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। কারখানার যে কক্ষে অল্টার থেকে গ্যাস বের করা হতো, সেখানে তা ছড়িয়ে থাকত। ফলে আগুনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল।

অল্টারের ওপরের অংশ থেকে আগুন সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও গ্যাস নির্গমনের সময় তা খুলে রাখা হতো না। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে শিশুদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আগুন থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল না। গত ২২ নভেম্বর কালার ম্যাক্স লাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ নারী-শিশু শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। অগি্নকাণ্ডের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মানবাধিকার কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. শরীফ উদ্দীন সমকালকে বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিয়েছে। তাতে সাতটি সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিশুশ্রম নিরসনের দায়িত্ব শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও এর দপ্তরগুলোর ওপর ন্যস্ত। কিন্তু কালার ম্যাক্স কারখানার নিরাপত্তাহীনতা ও শিশুশ্রম দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। ফলে তাদের ব্যর্থতাই আগুনের ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়।

সুপারিশে বলা হয়, শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কারখানার মালিককে শ্রম আইনের আওতায় বিচারের ব্যবস্থা করতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে বলা যেতে পারে। কারখানায় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না করায় এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আগের দুর্ঘটনাগুলোর জন্য দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রম ও কর্মসংস্থান ও এর দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তদারকি করতে ব্যর্থ হওয়ায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ওইদিনই ২০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। অন্যদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল সমকালকে বলেন, ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ ১০ শ্রমিক এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের ঝুঁকি কাটেনি।

প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যানের মৃত্যু: কালার ম্যাক্স (বিডি) লিমিটেডে আগুনের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম। এ অবস্থায় ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর কাঁটাবনের নিজ বাসায় হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়। অগি্নকাণ্ডের ঘটনায় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দায়ের করা দুটি মামলার তিনি প্রধান আসামি ছিলেন।

মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved