শিরোনাম
 হাওরে সাড়ে আট লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত  বিচারক ও আইনজীবীদের আরও মানবিক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী  বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জঙ্গি হামলা কমে যাবে: ওবায়দুল কাদের  সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না: ফখরুল
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৬
ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৬

বিশ্বসাহিত্যের মিলনমেলা

বাংলাকে বিশ্বে এবং বিশ্বকে বাংলার কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এ মাসের ১৭ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৬। বিশ্বসাহিত্যের রথী-মহারথী এবং বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে মুখরিত তিন দিনব্যাপী এই সাহিত্য উৎসবের এবারের আয়োজন নানা কারণে পেয়েছিল ভিন্নমাত্রা। নোবেল বিজয়ী কথাসাহিত্যিক ভি এস নাইপলসহ ১৮ দেশের ৬৬ বিদেশি এবং দেড় শতাধিক বাংলাদেশি সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক ও সাংবাদিকের মিলনমেলায় পরিণত হয় ষষ্ঠ ঢাকা লিট ফেস্ট। ঢাকা লিট ফেস্টের অন্যতম দুই পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ ও সাদাফ সায্রে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারসহ তিন দিনের এই আয়োজনের আদ্যোপান্ত নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আহমাদ শামীম
মানুষকে আবর্তিত সময় ও চিন্তার রূপরেখা ঠিক করে দেয় সাহিত্য। তাই সাহিত্যকে যতই নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হোক না কেন, সাহিত্য তার নিজ প্রয়োজনেই হয়ে ওঠে অসীম। সাহিত্যের এ অসীম শক্তির প্রকাশ আমরা আরেকবার দেখতে পাই সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া তিন দিনের ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৬-এ।

গত ১৭, ১৮ ও ১৯ নভেম্বর বাংলা একাডেমি চত্বর খ্যাতনামা বিদেশি সাহিত্যিক ও বাংলাদেশের লেখক, বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাশীল মানুষের কলরবে ছিল মুখর। ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের সাফল্য সাহিত্যের দিগন্তকে শুধু বিস্তৃতই করে না, বরং সাহিত্যের এক রৈখিক রঙকে আরও গাঢ় করে তোলে। এবারের ঢাকা লিট ফেস্টের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন নোবেল বিজয়ী কথাসাহিত্যিক ভি এস নাইপল।

১৭ নভেম্বর বাংলা একাডেমিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এই সাহিত্যযজ্ঞের উদ্বোধন করেন ভি এস নাইপল।

প্রথম দিন সাহিত্য, বিজ্ঞান, রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয় ২৩টি অধিবেশন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পরিচালনায় সুরের ধারার শিল্পীদের রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি ছিল মেহেদি হাসান ও তার বন্ধুদের পরিবেশনায় বিভিন্ন কবির কবিতায় সুরারোপে পরিবেশিত সঙ্গীত। একই সময় প্রদর্শিত হয় জয়া আহসান অভিনীত ও ইন্দ্রনীল রায় পরিচালিত চলচ্চিত্র 'ভালোবাসার শহর'। দুপুরে বেশ কয়েকটি সাহিত্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে মূল মঞ্চে 'ওয়ার্ল্ড ফিকশন :হিডেন রিয়েলিটি', 'ইমাজিনিং হিস্ট্রি', 'আমেরিকা :এক্সপেশনাল নো মোর' ছিল অন্যতম। প্লাজমা নিউরোসায়েন্সের অ্যাসথেটিক্স বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী। একই সময়ে ইংরেজি কবিতা পাঠ করেন ব্যান্ড তারকা মাকসুদুল হক ও স্টিভেন পাওলার। 'সাম্প্রদায়িকতার এপার ওপার' ও 'ক্রাইম পেজ :দি আর্ট অব সাসপেন্স' শীর্ষক আরও দুটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এ সময়। বিকেলে মূল মঞ্চে হয় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের 'বিষাদসিন্ধু'র ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব। অনুবাদক অধ্যাপক ফকরুল আলমের সঙ্গে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। একই সময় অন্য মঞ্চে 'সময়ের কবিতা সময়ান্তরের কবিতা' শীর্ষক অধিবেশনে কবি আসাদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় কবিতা পাঠ করেন কাজী রোজী, আসাদ মান্নান, শিহাব শাহরিয়ার, মুস্তাফিজ শফি, কুমার চক্রবর্তী, পাবলো শাহী, ওবায়েদ আকাশসহ আরও অনেকে। প্রথম দিন উল্লেখযোগ্য অধিবেশনের মধ্যে ছিল 'তনয়া তানিয়া' শীর্ষক গন্থের লেখক ভারতের অন্তরা গাঙ্গুলীর সঙ্গে অভিনেতা ইরেশ যাকেরের আলোচনা। ভি এস নাইপলের ওপর নির্মিত বিবিসির বিশেষ তথ্যচিত্র 'দ্য স্ট্রেঞ্জ লাক অব ভি এস নাইপল' ছিল দিনের অন্যতম আকর্ষণ। বিকেলে মূল মঞ্চে বারখা দত্তের সঙ্গে আলোচনা করেন উৎসব পরিচালক সাদাফ সায্। পুলিৎজার বিজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কবি বিজয় শেষাদ্রী আমেরিকার কবিতা নিয়ে কবি জেফরি ইয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। সন্ধ্যায় মূল মঞ্চে প্রয়াত লেখক সৈয়দ শামসুল হকের জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন কবিপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক, কবি সাজ্জাদ শরীফ ও সাহিত্যিক আহমেদ মাযহার। পরে সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নীল দংশন'-এর ইংরেজি অনুবাদে 'ব্লু ভেনমে'র অংশবিশেষ মঞ্চস্থ হয়। লোকসঙ্গীত শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন।

১৮ নভেম্বর উৎসবের দ্বিতীয় দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নোবেল বিজয়ী লেখক ভি এস নাইপলের বক্তৃতা। সন্ধ্যায় 'দ্য রাইটার অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড' শীর্ষক অধিবেশনে ভি এস নাইপলের বক্তৃতার মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের দ্বিতীয় দিন। বক্তৃতায় ভি এস নাইপল বলেন, "সৃষ্টিশীল যে কোনো কাজের পেছনে অদ্ভুত পাগলামি কাজ করে। পাগলামি না থাকলে সৃষ্টিশীল কাজ হয় না। আমার লেখালেখির জীবন ছিল জাদুর মতো। আমি ভাগ্যবান যে সেই পথেই আমি হেঁটেছি। লেখক হতেই চেয়েছি আমি। আমার লেখক বাবাকে দেখে এ ইচ্ছে হয়েছিল আমার।...লেখালিখির শুরুতে আমি জানতাম না, আসলে আমি কী লিখব। পরবর্তী সময়ে বুঝতে পারলাম, এ জন্য আমাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে।...আমি যে লেখালেখি করেছি, তা 'ননসেন্স' ছাড়া আর কিছুই না। আবার এটাও বলতে হয়, কোনো কিছুই খুব সহজে হয় না। অনেক চিন্তাভাবনার পরেই একটা কিছু দাঁড়ায়।"

লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন চত্বরের ছয়টি মঞ্চে ৩৭টি অধিবেশন সমাপ্ত হয়। সকালে 'ইন আদার ওয়ার্ডস :লাইব্রেরি অব বাংলাদেশ' শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নেন ২০১৬ সালের ম্যানবুকার পুরস্কারজয়ী সাহিত্যিক ডেবোরাহ স্মিথ, অরুণাভ সিনহা, চার্লস টর্নার ও কায়সার হক। বেলা ১১টায় মূল মঞ্চে হয় 'দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড ডিজঅর্ডার' শীর্ষক আলোচনা।

আরও ছিলো কার্তিকা ভিকের উপস্থাপনায় পুলিৎজারজয়ী সাহিত্যিক বিজয় শেষাদ্রীর কথোপকথন। এ ছাড়া অন্য মঞ্চে 'সুফি সোল' শীর্ষক আলোচনায় কথা বলেন সাদিয়া দেলভি ও অধ্যাপক সলিমউল্লাহ খান। 'ক্যান ইন্ডিয়া স্পিক' শিরোনামের অধিবেশনে দি ইকোনমিস্ট পত্রিকার দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরো চিফ ম্যাক্স রডেনবেকের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন নরেশ ফার্নান্দেজ, মঞ্জুলা নারায়ণ ও শ্রীরাম কারি। 'সাহিত্য যখন সবার' শিরোনামে দুপুর ২টায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইমতিয়ার শামীম। বিকেলে অনুষ্ঠিত 'টিকে থাকার আজ কাল পরশু' শীর্ষক অধিবেশনে পশ্চিমবঙ্গের নিউরোসায়েন্টিস্ট গার্গো চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় অংশ নেন ফিরোজ আহমেদ, চলচ্চিত্রকার ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী, সাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল ও মানস চৌধুরী। অন্য মঞ্চে 'জীবনের কবিতা' শীর্ষক আলোচনায় নিজের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে কথা বলেন নন্দিত কবি নির্মলেন্দু গুণ। এ ছাড়া 'মঞ্চ যখন আমার', শিরোনামের একটি অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়া। বিভিন্ন অধিবেশনের পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময়ে ছিল আফসারউদ্দিন আলী চিশতি ও তার দলের পরিবেশনায় মারফতি গান, নৃত্যনাট্য 'পার্বতীর আখ্যান', বিদ্যা শাহের পরিবেশনায় জলসা। বয়াতি শাহ আলম ও তার দলের পালাগানের পাশাপাশি ব্যান্ডদল স্টোন ফ্রির পরিবেশনায় ছিল এ বছর সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী বব ডিলানের সঙ্গীত।

সাহিত্যসুধীদের অংশগ্রহণে ঢাকা লিট ফেস্টের শেষ দিন ছিল ১৯ নভেম্বর। সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হয় ৩৯টি সাহিত্য অধিবেশন। শিল্পী নেদা শাকিবার কণ্ঠে বাহাই গানের মধ্য শুরু হয় সমাপনী দিন। সকালে ছিল 'মসলিনস মিস্ট্রি' শিরোনামের একটি অধিবেশন। একই সময় উৎসবের অন্য একটি মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় 'গার্ল পাওয়ার' শীর্ষক আলোচনা। এ ছাড়া নারীর পোশাক ও পর্দা বিষয়ে 'হোয়াট নট টু ওয়্যার' শীর্ষক এক অধিবেশনে ভারতীয় সাংবাদিক সাদিয়া দেলভির সঞ্চালনায় আলোচনা করেন সামিয়া হক, আমিনা ইয়াকিন, তাসাফি হোসেন ও হানিয়ুম মারিয়া চৌধুরী। শেষ দিনের অধিবেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 'যুদ্ধ শেষের যুদ্ধ' শীর্ষক অধিবেশনটি। এই অধিবেশনে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক আকিমুন রহমান, কবি ও কথাসাহিত্যিক মাহবুব আজীজ, সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ ও উৎসব পরিচালক আহসান আকবর। এ ছাড়া আগত অতিথি ও বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে 'দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাকর্ডিং টু পুতিন', 'আরব ফিকশন', 'জেনেটিক্স :লাইফ হ্যাক্্ড', 'আদিকথা ও নারী :জাতিগোষ্ঠী ইতিবৃত্তি', পোয়েট্রি :স্টিল হেয়ার আফটার অল দিস ইয়েটস', 'বুক অব ঢাকা', 'পূর্ব পশ্চিম'সহ বেশ কয়েকটি সাহিত্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিনের আকর্ষণের মধ্যে ছিল জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা। বিজয়ী সাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের ও মোস্তাফিজ কারিগর। এ ছাড়া ছিল বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলামের জীবন নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। উৎসব পরিচালক সাদাফ সায্, সম্পাদক জাফর সোবহান ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সমালোচক চার্লস ক্যাম্পবেল সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অকালপ্রয়াত রব ফকিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রায় ২০ হাজার সাহিত্যপ্রেমীর অংশগ্রহণে শেষ হয় তিন দিনের এই সাহিত্যমেলা।

ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৬ উৎসবের অন্যতম পরিচালক, কথাশিল্পী

কাজী আনিস আহমেদ

'ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৬' কতটা সফল মনে করছেন?

গত পাঁচ বছরের আয়োজনে এটি যথেষ্ট পরিণত ও পরিপকস্ফ রূপ পেয়েছে। ষষ্ঠবারের মতো এই আয়োজনের পরিধি অনেক বেড়েছে। এবার ১৮টি দেশের ৬৬ জন প্রতিনিধি এসেছেন। দর্শক-সমাগম ঘটেছে অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় বেশি। পশ্চিমা বিশ্ব সব সময় আমাদের দুর্ঘটনা, দারিদ্র্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে এসেছে, সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে জঙ্গিবাদ। কিন্তু আমরা চাই, আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচিতি বিশ্বের সামনে স্বমহিমায় উপস্থাপিত হোক। নতুন বাংলাদেশকে চিনুক বিশ্ব।

এবারের উৎসবের প্রাপ্তি কী বলে মনে করেন?

উৎসবটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় সাহিত্য আয়োজন হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে। পহেলা জুলাইয়ের মতো ঘটনার পর এবারের আয়োজন নিয়ে আমাদের দর্শক-শ্রোতাসহ সবারই সন্তুষ্টির যথেষ্ট কারণ আছে। আরও বলে রাখা ভালো, ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টারের উদ্যোগে বেঙ্গল লাইটস প্রকাশ করেছে রিজিয়া রহমানের রক্তের অক্ষর, মইনুল আহসান সাবেরের কোবেজ লেঠেল এবং ঢাকাকেন্দ্রিক গল্পগ্রন্থ, যা কি-না ইংল্যান্ডের কোমা প্রকাশনী ও বেঙ্গল লাইটসের সম্পাদনায় আকতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পসহ ১০ জনের গল্প অনূদিত হয়ে বিদেশিদের হাতে পেঁৗছেছে।

এবারের আয়োজনের বিশেষ দিকগুলো কী ছিল?

এখানে একটি বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের লেখক-চিন্তাবিদরা আসছেন, তারা কী ভাবছেন আমরা জানতে পারছি। অন্য বিষয়টি হচ্ছে, বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি ও কৃষ্টি অন্যদের কাছে তুলে ধরা। আমাদের শক্তিশালী অনেক লেখক আছেন, ছিলেন। আমরা সৈয়দ হককে সম্প্রতি হারিয়েছি। কিন্তু তার লেখা বিদেশে প্রচারিত হয়নি। অনেক ছোট বা সংকটময় দেশের লেখকরাও আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছেন। তাহলে বাংলা লেখা উপেক্ষিত থেকে গেল কেন? সাবলীল সহজ অনুবাদ বেশি হওয়া দরকার, যেটা আবার বিদেশি সমঝদারদের হাতেও পেঁৗছে দেওয়া দরকার। লিট ফেস্টের মাধ্যমে সেসব কাজ আমরা শুরু করতে পেরেছি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা

এবার প্রথমবারের মতো সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ভি এস নাইপল বাংলাদেশে এসেছেন। পুলিৎজারজয়ী কবি ভিজেই সেশাদ্রি ও ম্যানবুকারজয়ী অনুবাদক ডেবোরা স্মিথ এসেছেন। আমাদের আশা, একসময় দেশ-বিদেশের সাহিত্যিকদের এই আদান-প্রদান আরও নিবিড় ও সাবলীল হবে।

ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৬ উৎসবের অন্যতম আয়োজক

সাদাফ সায্

কেমন গেল এবারের আয়োজন?

আমরা খুবই খুশি যে এমন একটা আয়োজন করতে পেরেছি। এ বছর দেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনাগুলো এবং বিশ্বে বাংলাদেশের ব্যাপারে যে একটা নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে টেক্কা দিয়ে আমরা এবারের উৎসবকে অন্যবারের তুলনায় আরও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ করতে পেরেছি, এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।

উৎসবের অভিজ্ঞতাগুলো বলুন

এবার নানা রকম চ্যালেঞ্জ ছিল। বিদেশি সাহিত্যিকরা আসতে চাইবেন কি-না! কিংবা উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব কি-না। সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এবার আমরা বিশ্বসেরা তিনটি সাহিত্য পুরস্কারজয়ী তিন লেখককে ঢাকায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। আর উৎসবের অভিজ্ঞতা বলতে, এবার উৎসবটা ছিল অনেক বেশি শিক্ষণীয়। প্রতিটি সেশনের আলোচনার বিষয়বস্তু হতে শুরু করে অতিথি ও দর্শকের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ উৎসবটাকে মাতিয়ে তুলেছিল। সব মিলিয়ে এ বছরের আয়োজন সম্পন্ন করতে পারাটা বিশ্বসাহিত্য তো বটেই, সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা ইতিবাচক সাড়া ফেলবে। আর সবচেয়ে আনন্দময় অভিজ্ঞতাটা ছিল ভি এস নাইপলের সানি্নধ্য।

নোবেলজয়ী এই সাহিত্যিকের উৎসবে অংশগ্রহণটা কেমন ছিল?

ভি এস নাইপলের জীবনের একটা আশা ছিল যে, তিনি একবারের জন্য হলেও বাংলাদেশে আসবেন। তার স্বপ্নটা সত্যি হলো। আর বাংলাদেশের সাহিত্যানুরাগীদের জন্য তার বক্তৃতার এক ঘণ্টা সময়টা ছিল অসাধারণ। তিনি যখন তার জীবনের অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যচর্চার পথ সম্পর্কে বলছিলেন, সমগ্র মিলনায়তনে তখন ছিল পিনপতন নীরবতা। আমার মনে হচ্ছিল যেন, আমরা দাদা-নানা বা এমন কোনো বয়োজ্যেষ্ঠের সামনে বসে গল্প শুনছি।

ঢাকা লিট ফেস্ট এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার মতামত কী?

সত্যি কথা বলতে কি, শুধু বইমেলা নিয়েই এ যুগের সাহিত্যটা হয় না। আমরা অন্য যে কোনো বিষয় নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি; সাহিত্যেও সে কাজটা চালিয়ে যেতে হবে। সে জন্যই এ উৎসব একটা জায়গা তৈরি করে দেবে। আমাদের বাংলা ভাষায় এত বিশাল কাজ হয়ে গেছে, এত বড় বড় সাহিত্যিক তাদের কিংবদন্তিতুল্য সৃষ্টি রেখে গেছেন, তাহলে কেন শুধু একটা বৈশ্বিক যোগাযোগের অভাবে আমরা পিছিয়ে থাকব! বাংলাদেশের সমসাময়িক লেখকরাই বা কেন 'বাংলাদেশি লেখক' হিসেবে বিশ্বসাহিত্য-জগতে যথাযোগ্যভাবে দাঁড়াতে পারবেন না!

এবার ৬০ জন বিদেশি সাহিত্যিক এসেছেন এ উৎসবে। ভবিষ্যতে বিশ্বের নানা অঞ্চলের সাহিত্যিকদের সঙ্গে এ আদান-প্রদানটা অব্যাহত থাকবে। তা ছাড়া এ বছর প্রথমবারের মতো কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। হ
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved