শিরোনাম
 সিএমপির লতা পারভীনের আরেক সফলতা  শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় রোববার  নিখোঁজের ২ দিন পর পুকুরে মিলল ছাত্রের ক্ষতবিক্ষত লাশ
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৬, ০৩:০৮:৫৭

ভাঙল সাহিত্যিকদের মিলনমেলা

সমকাল প্রতিবেদক
দেশি-বিদেশি সাহিত্যিকদের মিলনমেলায় গত তিন দিন ধরে মুখর ছিল বাংলা একাডেমি চত্বর। সাহিত্য উৎসবের ৯০টি অধিবেশনে অংশ নিয়ে তারা কথা বলেছেন সাহিত্য-সমাজ-রাজনীতি-বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে। ছিল বই বিকিকিনির আয়োজনও। ঢাকা লিট ফেস্ট নামের ওই জমকালো আয়োজন গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে। শেষ দিন ঘোষণা করা হয়েছে জেমকন সাহিত্য পুরস্কার। যা পেয়েছেন মঈনুল আহসান সাবের ও মোস্তাফিজ কারিগর। এ ছাড়া ছিল বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলামের জীবন নিয়ে 'মনির' নামে বইয়ের প্রকাশনা উৎসব। সমাপনী দিনে ছিল ৩৯টি অধিবেশন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন করেছে যাত্রিক। এ উৎসবে ১৮ দেশের ৬৬ জন বিদেশি এবং দেড় শতাধিক বাংলাদেশি সাহিত্যিক-লেখক-গবেষক অংশ নেন।

গতকাল উৎসবের মূল মঞ্চ একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিল সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। আরও বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিচালক সাদাফ সায্, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক

জাফর সোবহান ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সমালোচক চার্লস ক্যাম্পবেল।

ফজলে হাসান আবেদ বলেন, এ দেশে সংস্কৃতির বহু ধারা রয়েছে, সে সঙ্গে তার মধ্যে ঐক্য রয়েছে। আমাদের উন্নয়নের সার্বিক কথাই হচ্ছে, সংস্কৃতির উন্নয়ন। লিট ফেস্ট নিয়ে তিনি বলেন, গত তিন দিন এ উৎসব ছিল এ শহরের সবচেয়ে বড় উৎসব। সে সঙ্গে লিট ফেস্টের আগের পাঁচ বছরের আসরের থেকে এবারের আসর সবচেয়ে সেরা বলে আমি মনে করি। যদিও আমি বেশিরভাগ অধিবেশনই থাকতে পারিনি।

বন্ধু সৈয়দ শামসুল হককে স্মরণ করে তিনি বলেন, 'আমি আমার বন্ধুকে মিস করছি। তার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার একজন মেধাবী সন্তানকে।'

সমাপনী দিনে স্বতন্ত্র ধারার শিল্পী মনিরুল ইসলামের শিল্পীজীবন ও তার শিল্পভাবনা নিয়ে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে কসমিক টেন্টে। শিল্পীর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ও গ্রন্থ প্রকাশ করেছে এনার্জিস লিমিটেড। ইংরেজি ভাষায় লেখা 'মনির' শীর্ষক বইটিতে ১৯৬৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মনিরুল ইসলামের নির্বাচিত শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। বইটি প্রকাশ উপলক্ষে আলোচনা ও শিল্পীর সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত এদুয়ার্দো ডে লা ইগলেসিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনার্জিস লিমিটেডের পরিচালক জেরিন মাহমুদ খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিপার্টের সম্পাদক মুস্তাফা জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট, এনার্জিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাবেদ হোসেন প্রমুখ।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, স্পেনে থাকলেও মনিরুল ইসলাম এই মাটির সন্তান। দেশ যার মনে প্রভাব ফেলে না, তিনি বড় মাপের কাজ করতে পারেন না। এই শিল্পীকে দেখলে, তার সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় বাংলাদেশ তার চেতনায় মিশে রয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, 'আমি স্পেস আর সময় নিয়ে কাজ করি। শূন্যতা নিয়ে সব সময় নিরীক্ষা করতে ভালোবাসি। তবে কোনো কাজ নিয়ে প্রথমে ভাবি। কাজ করার পরে কখনই সেই কাজের পুনরাবৃত্তি করি না।'

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় উৎসবের মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় 'যুদ্ধ শেষের যুদ্ধ' শীর্ষক অধিবেশন। এতে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক আকিমুন রহমান, সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ, সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ ও উৎসব পরিচালক আহসান আকবর। এ অধিবেশন সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী। এ অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নতুন যুদ্ধ ধর্মের নামে অমানবিকতা, সম্প্রদায়বাদী রাজনীতির প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। সে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ডানপন্থার উত্থান নিয়েও আলোচনা হয়।

আহসান আকবর বলেন, 'আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আমাদের কিছু তরুণ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের লোকাল এজেন্ট হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।'

এর আগে ঢাকা লিট ফেস্টের শেষ দিনের আয়োজন শুরু হয় নেদা শাকিবার কণ্ঠে বাহাই গানের মধ্য দিয়ে। বাংলা, ইংরেজি, ফার্সি, আরবি ও হিন্দি ভাষায় ঈশ্বরের বন্দনা করেন এ শিল্পী। এর পর সকাল ১০টায় ব্র্যাক মঞ্চে 'মসলিনস মিস্টিক' শিরোনামে অধিবেশনে ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় মসলিন নিয়ে আলোচনা করেন সাইফুল ইসলাম, রুবি গাবনবি, ফকরুল আলম ও শহীদুল আলম। একই সময় বটতলায় নারীর শক্তি নিয়ে বিশেষ আলোচনা 'গার্ল পাওয়ার'। এতে আলোচনা করেন এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদার, মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য সালমা খাতুন ও রুমানা আহমেদ এবং ফুটবলার শ্যামলী বসাক। একই সময় কসমিক টেন্টে প্রদর্শিত হয় 'দ্য সেন্টস্্ অব সিন'।

সোয়া ১১টায় মূল মঞ্চে নারীর পোশাক ও পর্দাসীনতা নিয়ে 'হোয়াট নট টু ওয়্যার' শীর্ষক অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ভারতীয় সাংবাদিক সাদিয়া দেলভি। আলোচনা করেন সামিয়া হক, আমিনা ইয়াকিন, তাসাফি হোসেন ও হানিয়ুম মারিয়া চৌধুরী। এ সময় লনে 'আরব ফিকশন' নিয়ে আলোচনা করেন নায়েল এলতোখি ও মার্সিয়া লিনেক্স কোয়েলি। সঞ্চালনা করেন কেলি ফ্যালকনার। এ সময় বটতলায় কিউ পি আলম শিশুদের শোনান 'আশা অ্যান্ড দ্য ম্যাজিক মশারি' গল্পটি।

দুপুর সাড়ে ১২টায় কেকে টি স্টেজে 'দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাকর্ডিং টু পুতিন' শিরোনামের অধিবেশনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিয়ে আলোচনা করেন ব্রিটিশ সাংবাদিক বেন জুদাহ ও রোজামান্ড আরউইন। একই সময় কসমিক টেন্টে মসলিন নিয়ে শিশু উপযোগী অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ও নাটক 'দ্য মসলিন স্টোরি' প্রদর্শিত হয়।

বেলা পৌনে ২টায় কেকে টি স্টেজে 'জেনেটিক্স :লাইফ হ্যাক্্ড' শীর্ষক অধিবেশনে কথা বলেন ভারতীয় মনোবিজ্ঞানী সঞ্জীব জৈন ও বাংলাদেশের জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন গার্গ চট্টোপাধ্যায়। একই সময় লনে আদিবাসীদের নিয়ে 'আদিকথা ও নারী :জাতিগোষ্ঠী ইতিবৃত্তি' শীর্ষক অধিবেশনে মৃত্তিকা চাকমার সঞ্চালনায় আলোচনা করেন আকবর আহমেদ ও মিথুন রাকসাম। একই সময়ে কসমিক টেন্টে ছিল গল্পবলার আসর। গল্প বলেছেন ভিউয়েলা মালুলিকি।

বিকেল ৩টায় মূল মঞ্চে 'পোয়েট্রি :স্টিল হেয়ার আফটার অল দিস ইয়েটস্্' শীর্ষক অধিবেশন সঞ্চালনা করেন আমিনা ইয়াকিন। আলোচনা করেন পুলিৎজার বিজয়ী কবি বিজয় শেষাদ্রী, খাদেমুল ইসলাম ও জেফরি ইয়াং। এ সময় বটতলায় বরিশালের মনসামঙ্গল সম্প্রদায় মঞ্চস্থ করে 'বেহুলা-লখিন্দর'। এ সময় লনে ছিল কবিতা পাঠের আসর। 'সময়ের কবিতা সময়ান্তরের কবিতা' শিরোনামে এ আয়োজনে সঞ্চালনা করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা। কবিতা পাঠ করেন আসাদ চৌধুরী, রুবী রহমান, মোহাম্মদ সাদিক, ফরিদ কবির, জহর সেন মজুমদার, তারিক সুজাত, কবির হুমায়ুন, আকবর আহমেদ, শাহনাজ নাসরীন, শাকিরা পারভীন, আলতাফ শাহনেওয়াজ, পিয়াস মজিদ প্রমুখ।

সোয়া ৪টায় কেকে টি স্টেজে ড্যানিয়েল হানের সঞ্চালনায় 'বুক অব ঢাকা' শীর্ষক অধিবেশনে আলোচনা করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অরুণাভ সিনহা, কায়সার হক ও কিউপি আলম।

বিকেল সাড়ে ৫টায় কেকে টি স্টেজে 'অনুবাদে পূর্ব পশ্চিম' শীর্ষক অধিবেশনে সঞ্চালনা করেন মাসরুর আরেফিন। আলোচনা করেন মাসুদ আহমেদ, নাজমুন নেসা পিয়ারি, হামিম কামরুল হক ও শামসাদ মুর্তজা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বটতলায় ছিল প্রয়াত রব ফকিরকে স্মরণে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান। যাতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিকড় বাংলাদেশের শিল্পীরা। যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের ঢাকা লিট ফেস্ট।

এবারের আয়োজনের মূল পৃষ্ঠপোষক ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন। এ উৎসবের প্লাটিনাম স্পন্সর ব্র্যাক, গোল্ড স্পন্সর এনার্জিস ও পূর্ণভা, গোল্ড পার্টনার ব্রিটিশ কাউন্সিল, সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ক্রিস্টোফারসন রব অ্যান্ড কোম্পানি ও ইউল্যাব।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved