শিরোনাম
 হাওরে সাড়ে আট লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত  বিচারক ও আইনজীবীদের আরও মানবিক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী  বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জঙ্গি হামলা কমে যাবে: ওবায়দুল কাদের  সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না: ফখরুল
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৬

রহস্যময় বিছানা

মেহেদী হাসান গালিব
সময়টা ১৯৮৭ সাল। আমেরিকার উইসকনসিন রাজ্যের ছোট্ট শহর হরিকনে বাস করতেন অ্যালেন টলম্যান ও ডেবি্ব টলম্যান নামের এক দম্পতি। দুই সন্তানের সঙ্গে সুখেই দিন কাটছিল তাদের। কিন্তু একটি দোতলা বিছানাই যেন তাদের জীবনের মোড় সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিল।

একদিন অ্যালেন ও ডেবি্ব টলম্যান একটি সেকেন্ড হ্যান্ড দোকান থেকে একটি বিছানা কিনলেন। বিছানাটি তারা তাদের দুই সন্তানের জন্য কিনেছিলেন। কিন্তু বিছানাটা বাসায় আনার পর থেকেই তাদের সঙ্গে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করল। প্রায়ই তাদের রেডিওটি নিজে নিজেই বেতার স্টেশন পরিবর্তন করত। ঘরের দরজাগুলোও মাঝে মধ্যে নিজে নিজেই খুলত এবং বন্ধ হতো। রকিং চেয়ারও প্রায়ই দুলতে দেখা যেত। হঠাৎ করে তাদের সন্তানরাও অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ হতে লাগল। অথচ আগে তারা কখনোই এ রকম ঘন ঘন অসুস্থ হতো না। এমনকি তারা তাদের ঘরে যেখানে বিছানাটি রয়েছে, সেখানে প্রায়ই একজন কুৎসিত বৃদ্ধ মহিলাকে দেখতে পেত। তাদের ভাষ্য মতে, সেই মহিলার দীর্ঘ কালো চুল ছিল এবং তার দেহ ছিল একটি জ্বলন্ত আগুনের পিণ্ড!

এসব ঘটনা তাদের মনে এতটাই আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল যে, তারা আর সেই বাসাতেই থাকতে চাচ্ছিল না। তাই একদিন অ্যালেন ও ডেবি্ব একজন ধর্মযাজক এনে তাদের বাসায় মন্ত্র পড়িয়ে নিলেন। কিন্তু তাতে খুব একটা সুবিধা হলো না। অদ্ভুত সব ঘটনা আগের মতোই ঘটে যেতে লাগল।

শেষমেশ একদিন রাগান্বিত হয়ে অ্যালেন বাসার ভেতরে হাঁটতে লাগলেন আর চিৎকার করে বলতে লাগলেন, 'আমার সম্মুখীন হও, আমার বাচ্চাদের মুক্তি দাও।' পরদিনই অ্যালেন অদ্ভুত একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন। তাদের গ্যারেজ থেকে ভেসে আসছিল সেই কণ্ঠস্বরটি। বলছিল, 'এখানে আসো।' কৌতূহলী অ্যালেন যখন গ্যারেজের কাছে গেলেন, তখন তার চোখে পড়ল লাল চোখওয়ালা একটি জ্বলন্ত আগুনের পিণ্ড; গ্যারেজের জানালা দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

পরবর্তীতে অ্যালেন রাতে তার আতঙ্কিত দুই সন্তানের সঙ্গে ঘুমাতে শুরু করলেন। এমনি একদিন অ্যালেন লক্ষ্য করলেন ঘরের মেঝে থেকে ঘন কুয়াশা ক্রমাগত উপরে উঠছে। একসময় সেই কুয়াশা রূপ নিল সবুজ চোখওয়ালা ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে। সেই কুণ্ডলী থেকে ভেসে আসতে লাগল অদ্ভুত সেই কণ্ঠস্বর এবং বলে উঠল, 'তুমি মারা যাবে।' তারপর সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে বাতাসে মিলিয়ে গেল। পরবর্তীকালে টলম্যান দম্পতি বিছানাটিকে পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল এবং বিছানাটি পুড়িয়ে ফেলার পর অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটাও বন্ধ হয়ে গেল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক এই যুগে সবকিছুর পেছনেই একটি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। কিন্তু এর মাঝেও এমন কিছু ঘটনা আছে, যার ব্যাখ্যা আজও পাওয়া সম্ভব হয়নি। সেসব অমীমাংসিত ঘটনাকে আমরা প্রকৃতির খেয়াল বলেই অভিহিত করে থাকি। এই দোতলা বিছানাটিও অমীমাংসিত রহস্যের একটি, যার আসল রহস্য আজ পর্যন্ত উন্মোচিত হয়নি।

কেনই বা বিছানাটি বাসায় আনার পর থেকে একজন কুৎসিত মহিলা বারবার তাদের সম্মুখীন হতে লাগল, আবার কেনই বা তাদের সুস্থ, স্বাভাবিক বাচ্চা দুটি বারবার অসুস্থ হয়ে যেতে লাগল? এসব কিছুকে নিছক কাকতালীয় ব্যাপার বলে মেনে নেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু বিছানাটি পুড়িয়ে ফেলার পরপর কেনই বা আবার সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেল? মনের কোণে জমা হওয়া এমন শত শত প্রশ্নের উত্তর কখনোই আমাদের জানা হয় না। কারণ এই পৃথিবীর প্রতিটি আনাচে-কানাচে এত রহস্য লুকিয়ে আছে যে, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে। 'দ্য টলম্যান হাউস বাঙ্ক বেড'খ্যাত এই বিছানাটি সেসব রহস্যেরই একটি অংশমাত্র।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved