শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৬
স্থানীয় সরকার

এমপিদের কর্তৃত্বমুক্ত হতে হবে

একটি পুরনো, বহু কথিত, বহুল আলোচিত বিষয়ে আবার আলোকপাত করা হয়েছে একটি সেমিনারে। দেশে স্থানীয় সরকার সংস্থার বিকাশ। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারের কার্যকারিতা। দেশের ইতিহাসে এ বিষয়ে কথা যত বেশি হয়েছে, কাজ তত কম হয়েছে। ওই সংস্থাগুলোর নির্বাচন হয়েছে অনেকবার। তাতে ঢোলের বাদ্য ভালোই বাজে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যারা নির্বাচিত হন তারা কেন্দ্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছ থেকে অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য চাতকের মতো চেয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করেন স্থানীয় কর আদায়ের চেয়ে। আর ওই ক্ষমতার প্রসাদে বলীয়ান হয়ে ব্যক্তিশাসন, গোষ্ঠীশাসনের দাপট প্রতিষ্ঠা করেন; কিন্তু জনসম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটি মুখ থুবড়েই থাকে। বহু বছর হয়ে গেল। শনিবার ৩০ জুলাই রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও উন্নয়ন অধ্যয়ন সংক্রান্ত একটি ইনস্টিটিউটের আয়োজনে গবেষক, পণ্ডিত ও বিশিষ্ট নাগরিকরা যা বললেন তা আরও অনেক দিন কাজে লাগবে না, যতদিন পর্যন্ত যারা বিষয়টা কানে নিলে কাজে লাগত তারা তা না নেন। তারা হচ্ছেন রাজনীতিবিদ। আরও খোলাসা করে বললে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যবৃন্দ। সেমিনারের বিষয় হলো, 'ইউনিয়ন পরিষদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও রাজস্ব আহরণ এবং উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দপ্তরসমূহের জবাবদিহিতা'। ইউনিয়ন পরিষদে এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্যের বিধান যে একটি ভালো প্রগতিশীল ব্যবস্থা তা সর্বমহলে স্বীকৃত; কিন্তু তাদের সক্রিয় কার্যকর অংশগ্রহণে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় সৃষ্ট বাধাটিও বহুল আলোচিত। সেমিনারে বিদেশি অংশগ্রহণকারী, আমাদের স্থানীয় সরকার এগিয়ে নেওয়ার একাধিক প্রকল্পে সহায়তাকারী সুইস প্রতিনিধির উপস্থাপনাটি প্রণিধানযোগ্য যে, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা ও জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ানো গেছে, সেখানে রাজস্ব আদায় বেশি। অথচ এই সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা যাচ্ছে এবং সেমিনারে আলোচনার মূল সুর হয়েছে এটাই যে, এমপিদের উপদেষ্টা করার ফলে তারা কার্যক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ওপর সবরকম মাতব্বরি করে সেগুলোকে পঙ্গু করে ফেলেছেন এবং তারা যে খাতগুলোতে টাকা বেশি সেগুলোতেই ক্ষমতা খাটাতে বেশি আগ্রহী। এর কোনো ব্যাখ্যা দরকার হয় না। ইঙ্গিত স্পষ্ট। মন্ত্রণালয়গুলোর ১২টি দপ্তরের কাজ উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত হলেও তা কাগুজে সিদ্ধান্ত মাত্র। সবই বগলদাবা এমপির কাছে। তারা টিউবওয়েল বসানোর সিদ্ধান্তও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে নিতে দেন না। ফলে তৃণমূল থেকে শাসন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা হবে_ এই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে আছে। জবাবদিহি ব্যবস্থাও পঙ্গু। আশির দশকে প্রবর্তিত উপজেলা পরিষদ ১৯৯১-এর পর বিএনপি সরকার বাতিল করেছিল। এক দশক পরে আওয়ামী লীগ তা পুনঃপ্রবর্তন ও নির্বাচন করালেও বস্তুত পরবর্তী দেড় দশকেও অকার্যকর। সাম্প্রতিকতম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সন্ত্রাস, মনোনয়ন-দুর্নীতি ও একতরফা দোষে এতই দুষ্ট যে, তা থেকে ভালো ফল দুরাশা।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved