শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৬

মর্যাদায় হলে সমতা কমবে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা

বনশ্রী মিত্র নিয়োগী
সন্ধ্যার পর আলোকিত পায়রাবন্দ গ্রাম। অদ্ভুত এক শিহরণ জাগানো মায়াবী পরিবেশ। মনে হচ্ছে আরও একটু কাটিয়ে যাই সময়। যেখানে গত ২ মার্চ হাজার হাজার মোমবাতি জ্বালিয়ে 'সমমর্যাদার অঙ্গীকারে' সমমর্যাদার যাত্রার সমাপনীর মাধ্যমে শুরু হয় নতুন এক অভিযাত্রা। যার শুরু হয়েছিল গত ২৯ ফেব্রুয়ারি স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর থেকে শিখা চিরন্তনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বেলিত এক ঝাঁক তারুণ্যের 'সমমর্যাদার' অঙ্গীকার ও আহ্বানে।

উদাত্ত এই আহ্বানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রচারাভিযান 'মর্যাদায় গড়ি সমতার' মূল স্লোগান 'মর্যাদায় হলে সমতা কমবে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা'। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৬ উপলক্ষে 'মর্যাদায় গড়ি সমতা' প্রচারাভিযান গ্রহণ করেছে পক্ষব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। তারই অন্যতম একটি হলো এই 'সমমর্যাদার যাত্রা'। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অবদানের স্বীকৃতি ও মূলত নারীর অদৃশ্যমান এবং মজুরিবিহীন শ্রমের অর্থনৈতিক-সামাজিক মূল্য ও গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এর অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে গেছে অনেক ক্ষেত্রে, নারীদের দৃপ্ত পদচারণা কোথায় নেই? কিন্তু নারীরা সম্মানের প্রশ্নে, মর্যাদার প্রশ্নে, সমতার প্রশ্নে আজও অনেক পিছিয়ে। যার প্রতিফলন আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাই পত্রিকার পাতায় সহিংসতার খবরের মাধ্যমে।

নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন আমাদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। গৃহস্থালি ও সেবা কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রয়োজন নারীর কাজের বোঝা কমিয়ে আনা, যেখানে অত্যন্ত জরুরিভাবে প্রয়োজন গৃহস্থালি ও সেবা কাজ ভাগ করে নেওয়া পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে। ফলে অনেক নারীর মানবাধিকার ও অধিকার সুরক্ষার পথ প্রশস্ত হবে। নারী তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় ও সিদ্ধান্তে বেছে নিতে পারবে সামাজিক বা অর্থনৈতিক কাজে তার অংশগ্রহণ।

শ্রম বাজারে ৩৩ থেকে ৩৬ শতাংশ নারীর উপস্থিতি ও অবদান স্বীকার করা হলেও সেসব নারীর বেশিরভাগই পরিবার ও সমাজে অসম্মান ও অমর্যাদাকর জীবনযাপন করছে। সুতরাং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীর অবদান স্বীকার করা হলেও নারীর সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে দ্বিধান্বিত। ফলে বৈষম্য, অন্যায্যতা, অসম্মান ও অমর্যাদা অব্যাহত থাকছে। নারীকে তার পুরো জীবনচক্রে কারও না কারও অধীনে জীবনযাপনে বাধ্য করা হয়। পুরুষের ওপর নির্ভরশীল করে রাখার, পিছিয়ে রাখার প্রবণতাটা সমাজে স্পষ্ট। ফলে নারী একটি অধস্তন অবস্থায় জীবন কাটায়।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গভীরভাবে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা। লিঙ্গভিত্তিক শ্রম বিভাজন ও ভূমিকা যেখানে নারী-পুরুষের মধ্যে মর্যাদার প্রশ্নে বিভক্তি সৃষ্টি করে রেখেছে এবং শ্রম বিভাজনই নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গী ও অমর্যাদারকর অবস্থানকে দৃঢ় করে রেখেছে। যেখান থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন পরিবারের গৃহস্থালি, সেবা কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আর্থিক-সামাজিক মূল্য এবং গুরুত্ব তুলে ধরে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারাভিযান পরিচালনা।

এই অভিযাত্রায় সমকাল সুহৃদের তরুণ সহযোদ্ধারা পথে পথে নারীর অদৃশ্যমান অবদানকে দৃশ্যমান ও উপলব্ধি করার জন্য এবং নারীর মজুরিবিহীন যেসব অবদান পরিবার ও সমাজ তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা তুলে ধরার মাধ্যমে এই 'সমমর্যাদার যাত্রা' নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উদ্দীপ্ত তারুণ্যের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠেছে পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতি চত্বর। আশার আলো প্রতিফলিত হয়ে ওঠে উপস্থিত সবার চোখে-মুখে, অঙ্গীকারে মুষ্টিবদ্ধ হয় প্রত্যেকের হাত। নারীর প্রতি সব বৈষম্যের অবসান, নারীর অবদান ও অর্জনের স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন সমগ্র মানব জাতির শক্তি-সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেবে কয়েক গুণ। নারীর মর্যাদাপূর্ণ ভয়হীন জীবনযাপনই নিশ্চিত করতে পারে, সুরক্ষা দিতে পারে নারীর সব অধিকার ও মানবাধিকারকে।

নারীর সুস্থভাবে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে প্রয়োজন সহিংসতামুক্ত একটি জীবন। শারীরিক শক্তি, অর্থকে পুঁজি বা ভিত্তি করে নয় বরং মানবাধিকারের মূল নীতিতে বিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তাই হোক আমাদের মূল শক্তি। যা পরিবর্তন করতে পারে পরিবার ও সমাজে নারীর অবস্থান।

লেখক ::সিনিয়র কোঅর্ডিনেটর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved