শিরোনাম
 হাওরে সাড়ে আট লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত  বিচারক ও আইনজীবীদের আরও মানবিক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী  বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জঙ্গি হামলা কমে যাবে: ওবায়দুল কাদের  সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না: ফখরুল
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৬

সমতা, ঘরে-বাইরে

ড. মাহবুবা নাসরীন
নারীদের বর্তমানে যে অবস্থান তাতে মনে করি এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসটি শুধু আমাদের দেশের জন্য নয়, সারাবিশ্বের নারীদের জন্যই বেশ তাৎপর্যময়। আমি এবারের নারী দিবসকে সামনে রেখে এটাই প্রত্যাশা করব, আমাদের দেশের নারীদের প্রতিনিয়তই যে সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাদের কেবল নারী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে যাতে সমাজে নিরাপদে বেঁচে থাকার সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। আজকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুরুর একশ' বছর পরও নারীর ওপর যে সহিংসতা, যে নিপীড়ন তা আশা করতে পারি না। কঠোর দারিদ্র্য, বিভিন্ন দুর্যোগে শহর কিংবা গ্রামে সব জায়গায়ই নারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে কিংবা কর্মক্ষেত্রে এখনও নারীরা বৈষম্যের শিকার। নারীদের শিক্ষাকে যাতে আরও কর্মমুখী করা যায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে রাষ্ট্রকে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে আজও নারীদের নিয়ন্ত্রণ মেনে চলতে হয়। এই মানসিকতা অবশ্যই দূর হওয়া উচিত। যে পেশা নারীকে সম্মান দেয় না, সেই পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য করা, নারী পাচার প্রভৃতি প্রতিরোধে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশ ওসমাজে নারী যেসব ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে অর্থাৎ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী যে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে তার যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যে পলিসি, যে আইন_ সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। যে উদ্দেশ্যে এই দিবসটির সূচনা হয়েছিল সেটা যাতে সমগ্র বিশ্বের নারীদের চিন্তা-চেতনা ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। প্রত্যাশা আরেকটি, আমাদের দেশের নারীরা যাতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারে_ এটাই যেন নারীদের প্রতিজ্ঞা হয়। তা ছাড়া আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে নারীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর অধিকার নারীদেরই আদায় করে নিতে হবে। পাশাপাশি নারীর প্রতি পুরুষদের যে দৃষ্টিভঙ্গি সেটারও পরিবর্তন বেশ জরুরি বলে আমি মনে করি। তবেই সমাজে নারীর প্রতি যে বৈষম্য, নিপীড়ন_ এই বিষয়গুলো দূর হবে।

আমাদের সংবিধান অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকারগুলো নারীরা যাতে পরিপূর্ণভাবে ভোগ করতে পারে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। সব ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতা পেরিয়ে এগিয়ে আসতে হবে নারীদের। সারাবিেেশ্ব এখন নারী সমাজের মূল সমস্যা হিসেবে একটা বিষয়কেই চিহ্নিত করা হয়েছে_ সেটা হচ্ছে বৈষম্য। এই বৈষম্য আমাদের দেশের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার অনেক গভীরে ঢুকে গেছে। আর এই বৈষম্যের কারণেই নারীর প্রতি এত অত্যাচার, এত নির্যাতন অব্যাহতভাবে চলে আসছে। সুতরাং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নারীর প্রতি সব বৈষম্য দূর করে সর্বক্ষেত্রে সমতা ফিরে আসুক, এটাই প্রত্যাশা করছি এবারের বিশ্ব নারী দিবসে। ধর্মীয় গোঁড়ামিকে যদি সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে না পারি তাহলে কেবল বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বে নারীর প্রতি প্রতিহিংসার যে ঘটনা বিচিত্ররূপে দেখতে পাচ্ছি, সেটাকে থামানো যাবে না কিছুতেই। একটি পক্ষ নারীর সম্ভ্রম লুটে নিয়ে যে বিজয়ের ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছে, নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক আঘাত হেনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের চেষ্টা করছে, এই চর্চা বন্ধ করতে হলে সমাজ থেকে যেমন মৌলবাদের আগ্রাসন দূর করতে হবে, তেমনি সব বৈষম্যকেও দূরে ঠেলে দিতে হবে। অন্যদিকে সঠিক আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে নারীর প্রতি যারা ধর্মীয় অনুশাসনের নামে অত্যাচার চালাচ্ছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা_ এটাই প্রত্যাশা করি। সবশেষে বলব, নারীর জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ জীবন-যাপনের পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারলেই প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের সার্থকতা খুঁজে পাব।

পরিচালক

ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved