শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৬
সমতার জন্য অঙ্গীকার

এবার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ

বিটপী দাশ চৌধুরী
সমতার জন্য আমরা অনেক কথা বলি। আদৌ কি সমতা পান আমাদের নারীরা? সমতা তো শুধু কাগজে-কলমে। আমরা নারীকে এগিয়ে যেতে বলি। নারী শুধু একা এগিয়ে যাবে, তেমনটি নয়। সে সবাইকে সঙ্গে করেই এগিয়ে যাবে। আমাদের এবারের মূল চিন্তা হওয়া উচিত নারীর ক্ষমতা কীভাবে চিহ্নিত করা যায়। আমরা কিন্তু অনেক আগেই শুরু করেছি এবং অনেকটা পথও হেঁটেছি। তবে আরও পথ হাঁটতে হবে। তরুণ সমাজকে নিয়ে আমাদের পদযাত্রা আরও দৃঢ় হবে।

অনেকে বলেন, তিন-চারজনে সমাজ বদলাতে পারে না। উদ্যোগের মূলে থাকেন কিন্তু ওই তিন-চারজন। এ ক্ষেত্রে তিন-চারজন একসঙ্গে হওয়া প্রয়োজন। একসঙ্গে না হলে সেখান থেকে নতুন কিছু বেরিয়ে আসবে কীভাবে? শতাব্দীর পর শতাব্দী যে কথা চলে আসছিল, সেটি কিন্তু ভুল প্রমাণিত হতে শুরু করেছে। নারীরা নাকি অযোগ্য, তাদের ক্ষমতা কম_ সেই কথা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে বর্তমান সময়।

হিমালয়-সেভেন সামিট, সম্প্রতি ভারোত্তোলনে নারীর বিজয়। উদাহরণ তো হাতের কাছেই।

বর্তমানে আমাদের একটি মিশ্র সমাজ ব্যবস্থা চলছে। তবে আকাঙ্ক্ষিত সবকিছুর পুরোটাই একদিনে পাওয়া সম্ভব নয়। শুধু নারীই যে সবকিছু করবে কিংবা পুরুষ সবকিছু করবে, তেমনটি নয়। নারী-পুরুষ উভয়ে মিলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। মূলত ছকে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেটি হলো আমাদের মানবিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। সবকিছু পেরিয়ে আমরা মানুষ_ এটাই আমাদের মূলকথা হওয়া উচিত।

আমার মনে হয়, এ জন্য শুধু পুরুষ নয়; দায়ী নারীরাও। নারীকে আমরা মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হলো মর্যাদার বিষয়টি মাথায় রাখা। নিজেকে নিজে যেমন মর্যাদা দিতে হবে, তেমনি সবাইকেই মর্যাদা দিতে হবে। এখানে নারী কিংবা পুরুষ ব্যাপার নয়। ব্যাপারটি হলো সবাই মানুষ। এই বোধটি সবার ভেতরে লালন করতে হবে। সমতা বলতে আমরা যেটা বুঝি, সেটার জন্য যে শুধু আইন পাস করলেই পরিবর্তন আসবে, তেমনটি ভাবা ঠিক নয়। কারণ আইন পাসেই পরিবর্তন আসে না। পরিবর্তন আসে যখন আইনের পরিবর্তন ঘটে। আর এই প্রয়োগের ব্যাপারটি সমাজে সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় গুরুত্ব বহন করে পরিবার। পরিবার থেকেই সব ভালো কিংবা মন্দ কিছুর উত্থান হতে পারে। তাই প্রয়োগের ব্যাপারটি পরিবার থেকেই শুরু করলে ভালো। আমাদের আরও একটি সমস্যা রয়ে গেছে। যেটা হলো, নারী কখনোই তার অধিকার নিয়ে সচেতন নয়। পুরুষ শুধু যে দোষী; তাই নয়। দোষী নারীও। কারণ সে তার অধিকার সম্পর্কেই জ্ঞাত নয়। আর না জানলে সেটা আদায়ে সচেষ্ট হবে কীভাবে! দৃষ্টিভঙ্গিটা বড় গুরুত্বপূর্ণ। তাকে মানুষ হিসেবে দেখা শিখতে হবে। এ ছাড়া আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। শিক্ষার মাধ্যমে এই বিষয়গুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। নারীকে বোঝা মনে করে মাইন্ড সেট করাটাও আমাদের নারীদের এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমি মনে করি, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের।

হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved