শিরোনাম
 সাত খুন মামলায় ১৫ জনের ফাঁসি বহাল, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  প্রধান বিচারপতির সঙ্গে গওহর রিজভীর সাক্ষাৎ  বিবিএস ক্যাবলসের অস্বাভাবিক দর তদন্তে কমিটি  বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষি ও এসএমই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৬
সমতার জন্য অঙ্গীকার

সর্বক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা জরুরি

রাশেদা কে চৌধুরী
সব ধরনের বৈষম্য নির্মূল করে একটি সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে নারীর অধিকার আদায়ের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতিভা, দক্ষতা ও যোগ্যতার মধ্য দিয়ে সব বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে একটি দক্ষ মানব সমাজ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের নারী সমাজ শিক্ষা, মেধা ও মননে আগের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার নারীর জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীরা আজ সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সব সময় বলা হয়_ 'নারী, তুমি বদলাও'। শুধু নারী একা বদলালে তো হবে না। পুরুষের মানসিকতারও বদল দরকার। তবেই নারীর পরিবর্তন সম্ভব। তাই আগে পুরুষের মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে, তাহলেই নারীর পরিবর্তন সম্ভব। আগের চেয়ে দেশের নারীদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আজ তারা পুরুষের পাশাপাশি এগিয়ে চলেছেন। লেখাপড়ায় নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে আছেন। বিভিন্ন সরকারের আমলে নারীদের জন্য নানা ধরনের বৃত্তি-উপবৃত্তি চালু করায় লেখাপড়ার প্রতি নারীদের আগ্রহ বেড়েছে। আলোচকরা বলেন, দেশের নারীরা আজ শিক্ষা অর্জনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে যাচ্ছেন। সেখানে তাদের অর্জন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের বর্তমান করপোরেট জগতে নারীরা অত্যন্ত সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও তারা সফলতা পাচ্ছেন। এর সবই এদেশের নারীদের কাজের প্রতি একাগ্রতা, নিয়মানুবর্তিতা ও সততার ফসল। তবে এখনও দেশের এক বৃহৎ নারী সমাজ নানা দিক থেকে বঞ্চনার শিকার। সমঅধিকারের কথা বলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা তা উপভোগ করতে পারছেন না। দেশের বৃহৎ নারীগোষ্ঠীর জীবনমানের পরিবর্তনে প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সহযোগিতা।

অধিকার অর্জনের পথে পরবর্তী ১০০ বছরে নারীরা এগিয়েছেন নানা ক্ষেত্রে। সংগ্রাম আর সচেতনতায় সমৃদ্ধ হয়েছে নারীর জগৎ। শিক্ষা-সংস্কৃতিতে এগিয়েছেন নারী। তাদের সচেতনতার মধ্য দিয়ে নারী আন্দোলন ব্যক্তিকেন্দ্রিক থেকে সামষ্টিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। নারী আন্দোলন এখন শুধু সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনের বাইরেও নারীরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন। বাঙালি নারী আন্দোলনের পুরোধা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন ছিল নারী কেরানি থেকে জজ-ব্যারিস্টার হবে। বেগম রোকেয়ার সে স্বপ্ন নারীরা বাস্তবায়ন করেছেন। নারীরা এগিয়ে চলেছেন সদর্পে। নানা চড়াই-উতরাই ও কুসংস্কারের বাধা পেরিয়ে তারা সমহিমায় ভাস্বর। হিমালয় চূড়া থেকে ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব। শিক্ষা-সংস্কৃতিতে নারীরা এগিয়ে চলেছেন দৃঢ় পায়ে। তবে এখনও বহু পথ বাকি। এখনও অনেক অর্জন ধরার বাইরে। সেই অর্জনকে নিজেদের করার জন্য এদেশের নারীদের পথ চলাও থেমে নেই। বিগত বছরে তৃণমূল থেকে হিমালয় শিখর পর্যন্ত সর্বত্রই নারীর যাতায়াত ছিল। সবচেয়ে বড় অগ্রযাত্রা ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক_ সর্বক্ষেত্রেই নারীরা এবার ছিল এগিয়ে। তবে সেটা হচ্ছে একটি পর্যায়ে। আমরা সুবিধাবঞ্চিতদের এখনও সমান পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারিনি।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও নারীর অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। তারা এখন দেশের চালিকাশক্তি। তবে সেই শ্রমের মূল্য তারা পাচ্ছেন না। এমনকি রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে নারীর সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও হয়নি। এ ছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা এখনও কমেনি। মনে হয়, তারা কোথাও নিরাপদ নন। মাঠ থেকে শুরু করে সব জায়গায় এখনও তারা প্রতিবন্ধকতার শিকার। দুঃখজনক হলেও সত্যি, নারী নির্যাতনের দিক থেকে এখনও উত্তরণ মেলেনি। তার প্রমাণ পাওয়া গেছে এ বছরই। নির্যাতনের শিকারের চরম সীমায় ছিলেন নারীরা। এর প্রধান কারণ এখনও সব নারী এই অত্যাচারকে নির্যাতন হিসেবে দেখেন না। তাই এর গুরুত্বও থাকে না। এমনকি আইনও কঠোর হয় না। প্রধান কারণ, আমাদের রাষ্ট্র যতই বলে নারীবান্ধব; কিন্তু সে দিক থেকে আমরা পিছিয়ে। এখনও আমরা নারীবান্ধব হতে পারিনি। আর এবারের যে প্রতিপাদ্য সেটি শুধু কাগজে-কলমে না রেখে সরকারের প্রথমেই এ বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া উচিত, যাতে তিনি তার সঠিক সুবিধা পেতে পারেন।

সবার আগে নারীর কী অধিকার পাওয়া উচিত সে সম্পর্কে তাকে জানাতে হবে। তাহলেই সম্ভব ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া। নারী উন্নয়নে মহাজোট সরকার নারীনীতি ঘোষণা করেছে। এতে নারীদের সব অধিকার, সুযোগ সুবিধা উল্লেখ করা হয়েছে, যার আলোকে সামাজিক-সাংস্কৃৃতিক বিভিন্ন দিকে তারা অগ্রসর হচ্ছেন। তবে এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। সর্বক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন নারী দিবসের বড় দাবি।

নির্বাহী পরিচালক

গণসাক্ষরতা অভিযান
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved