শিরোনাম
 ঈদযাত্রার ট্রাক উল্টে রংপুরে নিহত ১৬  মহাসড়কে ধীরগতি  চীনে ভূমিধস, শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ০১:০৯:২৪

ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতা

চাপা দিয়ে সিএনজিচালককে হত্যা করল বাস ড্রাইভার
বিশেষ প্রতিনিধি
একজন সিএনজি অটোরিকশাচালককে ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতায় বাসচাপা দিয়ে হত্যা করল ড্রাইভার। নিমেষে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল ছোট একটি পরিবারের সব সুখ, সব স্বপ্ন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরার জসীমউদ্দীন এভিনিউর সামনে।

সিএনজি অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দেওয়ার প্রতিবাদ করেছিলেন চালক মো. ফারুক (৪২)। বাসচালক আবদুল মজিদের (২৭) কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলে ক্ষিপ্ত মজিদ বাসের চাকায় পিষ্ট করল ফারুককে। বাসটির সামনের চাকায় আটকা পড়ে অন্তত ২০ গজ দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে ফারুকের নিথর দেহ।

পুলিশ ঘাতক চালককে আটক ও বাসটি জব্দ করেছে। নিহত ফারুকের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফারুক রাজধানীর মুগদায় স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনের

ওসমানগঞ্জে। বাসচালককে আসামি করে গতকাল রাতে উত্তরা থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের ভাই হারুন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মো. আলী হোসেন সমকালকে জানান, জসীমউদ্দীন এভিনিউর একটি ব্যাংকে বড় ধরনের অর্থের লেনদেন হচ্ছিল। তাই ওই এলাকায় দুপুর থেকে তিনি অবস্থান করছিলেন। মোহাম্মদপুর থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তেঁতুলিয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৪৮৯) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। প্রতিবাদ করতে সিএনজিচালক ওই বাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। শুরু হয় দু'পক্ষের বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে সিএনজিচালকের শরীরের ওপর বাস তুলে দেয় চালক। এতে সিএনজিচালকের মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে। এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আশপাশের লোকজন চিৎকার শুরু করে। ঘাতক চালক বাস নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি ওয়্যারলেস সেটে হাউস বিল্ডিংয়ের আমির কমপ্লেক্সের সামনে পুলিশ চেকপোস্টের সদস্যদের সতর্ক করলে তারা ঘাতক চালককে আটক ও বাসটি জব্দ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাপা দিয়ে সিএনজিচালককে হত্যার পর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বাসচালক। যাত্রীরা চিৎকার করে বারবার গাড়ি থামানোর কথা বললেও সে শোনেনি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে থানায় ছুটে যান নিহতের স্বজনরা। তাদের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। স্বামীর অকালমৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন স্ত্রী পেয়ারা বেগম। অচেতন হয়ে পড়লে থানা থেকে ফারুকের স্ত্রীকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। তিন শিশুসন্তানকে নিয়ে এখন কোথায় যাবেন পেয়ারা বেগম।

ফারুকের ভাই হারুন সমকালকে জানান, সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হন ফারুক। সিএনজি অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার কোনোরকম চালিয়ে আসছিলেন। হঠাৎ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা দিশেহারা। নিষ্ঠুর এই হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। সাত মাস আগে মারা যান হারুনের বৃদ্ধ বাবা। এর পর থেকে গোটা সংসারের হাল ধরেছিলেন হারুনের বড় ভাই ফারুক।

থানায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাতক চালক ভাবলেশহীন। চোখে-মুখে অনুশোচনার কোনো ছাপ নেই। স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক চালক আবদুল মজিদ জানিয়েছে, তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। গাড়িটির মালিক তার বাবা মোখলেছ মিয়া। তবে তার কথাবার্তায় অনেক অসংলগ্নতা রয়েছে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved