শিরোনাম
 সুজানগরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা  ফের গণমাধ্যমের ওপর চড়াও ট্রাম্প  এসপানিওলকে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

বিশেষ সুবিধা চায় বেসিক ব্যাংক

ওবায়দুল্লাহ রনি
ব্যাপক ঋণ অনিয়মের ফলে সমস্যাকবলিত বেসিক ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে কিছু বিশেষ সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। একই সঙ্গে মূলধন ঘাটতি জোগানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে সরকারের কাছে। এরই মধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণে ১০ বছর সময় পেয়েছে এ ব্যাংক। এখন বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল, নতুন ঋণ বিতরণে বাড়তি সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সুবিধা চাওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রকৃত সুবিধাভোগী পাওয়া যায়নি এমন দুই হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার ঋণের হিসাব গত বছর থেকে ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে বাদ দিয়ে করা হচ্ছে। সাধারণভাবে আর্থিক বিবরণী থেকে কোনো টাকা বাদ দিতে হলে তার বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখার বিধান রয়েছে। তবে ব্যাংকটির সে সক্ষমতা না থাকায় প্রভিশন সংরক্ষণে ১০ বছর সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর্থিক বিবরণী থেকে বাদ দেওয়া প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা না ধরেই গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৪৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে এক হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে দুই হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদনে বলা হয়েছে, আইনে যা-ই থাকুক না কেন, আড়াই শতাংশ হারে ডাউনপেমেন্ট নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হোক। আর এ জন্য গ্রাহকের আবেদন গ্রহণের সময় দিতে বলা হয়েছে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাতের (এডিআর) ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম প্রযোজ্য না করে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে একশ' টাকা ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা চেয়েছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের জন্য বিদেশি ব্যাংকে খোলা নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে রক্ষিত অর্থের সীমা ৫০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে এক কোটি ডলার করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ সমকালকে বলেন, নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুনঃতফসিলের মাধ্যমে এরই মধ্যে অনেক ঋণ সিকিউরড করা হয়েছে। সিটিব্যাংক এনএ তাদের এলসি নেওয়া শুরু করেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ অন্যরাও শিগগিরই এলসি নেবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি জানান, ব্যবসা করার জন্য নতুন ঋণ বিতরণের মতো টাকার অভাব তাদের নেই। তবে নিজস্ব পুঁজি বা মূলধন না থাকায় চাইলেও ঋণ বিতরণ করতে পারছেন না। এ কারণে এখন তাদের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, তা হলে মূলধনের জোগান। মূলধন ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছে তিন হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। সেটি পেলে এ ব্যাংক আবার ভালো ব্যবসা করতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।

জানা গেছে, ঋণের দায় স্বীকার করাতে এখন চেষ্টা করে যাচ্ছে নতুন কর্তৃপক্ষ। আর এজন্য বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে প্রায় ১৬শ' কোটি টাকা। নতুন করে আরও বেশ কিছু ঋণ পুনঃতফসিলের অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। মূলত কোনো নিয়ম মেনে দেওয়া হয়নি এমন ঋণ গ্রহীতার দায় স্বীকার করাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব ঋণ গ্রহীতা বড় অঙ্কের কমিশনের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা ছাড়াই ওই ঋণ পান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি শাখা থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। মূলত ২০১০ থেকে ১৪ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত এসব অনিয়ম হয়। এসব অনিয়মের প্রভাবে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে এখন আট হাজার ১০৮ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে, যা মোট ঋণের ৬৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মূলধন ঘাটতি বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এক সময় ব্যাংক খাতের ভালো প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত বেসিকের অনিয়মের তথ্য উদ্ঘাটনের প্রথম দিকে দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।

নানা সমালোচনার মুখে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তখনকার এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশের আলোকে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়।

অবশ্য পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন মূল অভিযুক্ত তখনকার চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু। এরপর আলাউদ্দিন এ মজিদের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৭ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর অপসারণ করা হয় ব্যাংকের তিন ডিএমডি ও একজন মহাব্যবস্থাপককে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved