শিরোনাম
 উত্তরে পানি কমছে, বাড়ছে মধ্যাঞ্চলে  রাষ্ট্রপতিকে জানানো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব: ওবায়দুল কাদের  নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারী খুঁজতে কমিশন গঠনের চিন্তা চলছে: আইনমন্ত্রী  রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নজিরবিহীন: ফখরুল
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই এখন তাদের অবস্থান

ডা. সারওয়ার আলী
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে_ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশে কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক কিংবা বিভ্রান্তি রয়েছে বলে আমি মনে করি না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের দু'একজন নাগরিক এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আর পাকিস্তানের শাসকরা বরাবরই এ প্রশ্ন তুলছে। সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানের কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এবং সরকার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে কোনো গণহত্যা সংঘটিত হয়নি বলেও বক্তব্য দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেয়নি। মেনে নেওয়ার প্রশ্নও আসে না। বস্তুতপক্ষে খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা ও নৃশংসতার ঘটনাগুলোকে খাটো করে দেখানোর প্রবণতারই অংশ। এটা বাংলাদেশের কিছু লোক করছে; দেশের বাইরেও কিছু লোক করছে। ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িতদের যখন বিচার কাজ চলছে তখন অপরাধীদের লঘুদণ্ড প্রদানের পক্ষে কিছু লোককে আমরা অতিমাত্রায় সক্রিয় দেখতে পাই। এ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি মহল অপ্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে আমরা তারই অংশ হিসেবে ধরে নিতে পারি। ২০১০ সালে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় প্রদান করেন। একের পর এক রায় প্রকাশ হতে থাকলেও বিএনপি নেতৃত্ব এ বিষয়ে নির্লিপ্ত মনোভাব দেখিয়েছে। কখনও কখনও তাদের অবস্থান থেকেছে অস্পষ্ট। কিন্তু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের দণ্ডাদেশ কার্যকর করার পর বিএনপি নেতৃত্ব এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে বলেই প্রতীয়মান। প্রকৃতপক্ষে তারা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের বিরুদ্ধেই কথা বলতে শুরু করেছে এবং খালেদা জিয়ার বক্তব্য তারই ধারাবাহিকতা বলে আমার মনে হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে এমন কোনো বৃহত্তর পরিবার ছিল না, যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে এক বা একাধিক সদস্যকে হারায়নি। অনেক পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক গ্রামের সব মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এদের নৃশংসতার কারণে অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে 'বিধবা পল্লী'। আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরতে চাই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল সাত হাজারের মতো। তাদের মধ্যে ৭১ জনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীরা হত্যা করেছে। এমন আরও অনেক পরিসংখ্যান আমরা দিতে পারি। দেশের বুকে শত শত গণকবরের সন্ধান আমাদের জানা আছে। অনেক গণকবর এখনও আবিষ্কৃৃত হচ্ছে। অনেক অনেক নারী-পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে নদীর তীরে এবং লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে অনেক নারী-পুরুষ-শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যাটি যে যথাযথ_ তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত অল্প সময়ে এত অধিক সংখ্যক মানুষ হত্যার শিকার হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবেও এটা মেনে নেওয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর জেনোসাইড স্কলারস-এর সভাপতি ডানিয়েল ফেরস্টেইন বাংলাদেশ সফরকালে বলেছেন, বিশ্বের কোনো গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয় না। মুক্তিযুদ্ধে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে যারা বিতর্ক তুলছে, তারা বস্তুতপক্ষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের ভয়ঙ্কর অপরাধকে লঘু করে দেখানোরই প্রয়াস চালাচ্ছে, যা কেবল দুর্ভাগ্যজনক নয়; কঠোরভাবে নিন্দনীয়ও।

ষ ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved