শিরোনাম
 সুজানগরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা  ফের গণমাধ্যমের ওপর চড়াও ট্রাম্প  এসপানিওলকে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫
গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা

অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত হোক

মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে 'গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি-২০১৫'র খসড়া অনুমোদিত হওয়ার খবর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া গেলেও নিঃসন্দেহে তা স্বস্তিদায়ক। এর মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান অনানুষ্ঠানিক শ্রম খাতে নিয়োজিত ২০ লাখের বেশি, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশ আবার শিশু; শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথে এক ধাপ অগ্রগতি ঘটল। আমরা জানি, নেহাত পেটের দায়ে পরের বাড়িতে কাজ করতে আসা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীরা গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর বীভৎস ও বিচিত্র নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। উদয়াস্ত নয়; আলো ফোটার আগ থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত গৃহকর্মীরা নিভৃত গৃহকোণে নীরবে কাজের বিনিময়ে উপযুক্ত মজুরি দূরে থাক, মানুষ হিসেবে প্রাপ্য মর্যাদাও সবসময় জোটে না। কিছুদিন আগে দেখেছি, আমাদের জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের ঘরে এক গৃহকর্মী কী নিদারুণ নির্যাতনের শিকার হয়েছে! বস্তুত গৃহকর্মীরা নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘ দিন তাদের অধিকার, মর্যাদা ও পারিশ্রমিকের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণে নির্লিপ্ত ছিল। ২০১০ সালে 'গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা' খসড়া আকারে প্রণীত হলেও তা গত পাঁচ বছর ধরে ঝুলে ছিল। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের গদাইলস্করি চাল আমাদের কখনোই বোধগম্য ছিল না। শেষ পর্যন্ত যে এতদসংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে, সেটাই আপাত স্বস্তির বিষয়। আরও শ্লাঘার বিষয় হতে পারে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম এই অনানুষ্ঠানিক খাতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনসূত্রে জানা যাচ্ছে, খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে_ ১৪ বছরের আগে কাউকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। শ্রমঘণ্টা ও বেতন-ভাতা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। গৃহকর্ম শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং সবেতনে চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছাড়াও অন্যান্য ছুটি ভোগ করতে পারবেন গৃহকর্মীরা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, কোনো গৃহশ্রমিক নির্যাতনের শিকার হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গৃহশ্রমিকদের সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, অসুস্থ থাকলে কোনো গৃহকর্মীকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। নিয়োগকারীকে নিজের অর্থে সুচিকিৎসা করাতে হবে। এ ছাড়া গৃহকর্মীকে তার নিজের ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হলে চিকিৎসাসহ দুর্ঘটনা ও ক্ষতির ধরন অনুযায়ী নিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই নীতিমালায় যেভাবে দৈহিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক পীড়নও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্টদের দূরদৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায়। এতে অন্যায় ও নির্যাতনের হার হ্রাস পাবে, আশা করা যায়। তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, নীতিমালা বা আইনের সার্থকতা তখনই, যখন সেটা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে গৃহকর্মে নিযুক্ত সমাজের নিম্নতম স্তরের মানুষ প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি ছাড়া এই নীতিমালার সুফল কতটা পাবে, আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমরা দেখতে চাইব, কোনো গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতন বা অন্যায়ের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুততা, আন্তরিকতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে গৃহকর্মীর সংখ্যা ও শ্রেণী সম্পর্কেও একটি জরিপ পরিচালনা করা উচিত। তাতে এ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে বৈকি। উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা ও প্রতিকারের পাশাপাশি সমাজের মানবিকবোধ জাগ্রত করার উদ্যোগই পারে গৃহকর্মীদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved